মারণরোগের কাছেই জীবনযুদ্ধের পরাজয়! প্রয়াত ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবণী বণিক
বছর শেষে টলিউডে শোকের ছায়া। মারণ রোগ ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করেও জীবনের কাছে হেরে গেলেন ছোটপর্দার অভিনেত্রী শ্রাবণী বণিক। সোমবার সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ রাজারহাটের একটি ক্যানসার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেত্রী।মঞ্চ, নাটক, ছোটপর্দায়, বড়পর্দায় সাবলীল তাঁর উপস্থিতি আর দেখা যাবে না। বিশেষ করে টেলিভিশনের দর্শকের কাছে শ্রাবণী বণিক ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত মুখ।বেশ কিছুদিন ধরেই শ্রাবণীর অসুস্থ সে’খবর জানা গিয়েছিল টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে। তাঁর ছেলে অচ্যুত আদর্শ সমাজ মাধ্যমে পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, মাকে বাঁচানোর জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। প্রায় ১২ লাখ টাকার প্রয়োজন। সেই সঙ্গে তুলে ধরেছিলেন মায়ের অদম্য মনোবল ও লড়াই করার মানসিকতার কথা।শেষে বেশ কয়েকদিন হাসপাতালের শয্যাতেই দিন কেটেছে। ফুসফুসের অ্যাডেনোকার্সিনোমা অর্থাৎ ফুসফুস ক্যানসার এবং মেটাস্টেসিসে ভুগছিলেন শ্রাবণী। কয়েক সপ্তাহ ধরেই অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। শেষপর্যন্ত জীবনযুদ্ধে হেরেই গেলেন শ্রাবণী।
শ্রাবণী বণিক ছিলেন ছোটপর্দা ও বড়পর্দার এক সুপরিচিত নাম। কখনও মায়ের চরিত্রে, কখনও আবার কাকিমা চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা দিয়েছে এই অভিনেত্রীকে। ‘আলো’ এবং ‘চাঁদের বাড়ি’র মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল।‘লালকুঠি’, ‘রাঙা বউ’, ‘গোধূলি আলাপ’, ‘সোহাগ চাঁদ’, ‘কে আপন কে পর’-এর মতো একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় মুগ্ধ করে দর্শকদের। সম্প্রতি মালাবদল ধারাবাহিকে দিতির সৎ মায়ের চরিত্রেও নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখে গেলেন প্রয়াত অভিনেত্রী।
শ্রাবণীর প্রয়াণে টলিপাড়ায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহকর্মী, পরিচালক, শিল্পী ও অনুরাগীরা সমাজ মাধ্যমে একের পর এক শোকবার্তা জানিয়েছেন। পরিচালক বাবু বণিক লিখেছেন, ‘কিছু পরিচয় কাজের সূত্রে হয়, কিন্তু সেই পরিচয় যখন কোনও চাওয়াপাওয়া, বা কোনও শর্ত বা কোনও স্বার্থ, সবকিছু ছাড়িয়ে একটা অন্য মাত্রা নেয়। দুটো পরিবারকে অদৃশ্য সুতোয় বেঁধে ফেলে, সেটাকেই বোধ হয় প্রকৃত বন্ধুত্ব বলে। আজ শ্রাবণীকে হারিয়ে আমি,আমার পরিবার, আমরা সবাই বাকরুদ্ধ। চিরকাল কেউ থাকে না। কিন্তু শ্রাবণী যে এত তাড়াতাড়ি চলে যাবে… বিশ্বাস করতে পারছি না। শুনেছি, আত্মার কোনও মৃত্যু নেই। তাই ওঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।’
