তিলোত্তমা সাক্ষী থাকল অরিজিৎ সিংয়ের  ‘মায়া ভরা রাতি’! লোপামুদ্রাকে জন্মদিনে খাওয়ালেন পায়েস!

0

কতই না সহজ? ৩৮-এই প্লে ব্যাক থেকে অবসর নিয়ে ফেলা। আমির খানকে সঙ্গী করে গ্রামের বাড়ি জিয়াগঞ্জে ঘুড়ি ওড়ানো।সহজ পরবের মঞ্চে লোপামুদ্রা মিত্রের জন্মদিনে হাজির হয়ে তাঁকে পায়েস খাইয়ে দেওয়া। অবসরের পর প্রথম নেতাজি ইন্ডোরে পণ্ডিত রবিশঙ্করের কন্যা অনুষ্কা শঙ্করের অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে সবাইকে চমকে দেওয়া, সেখানে হাত জোড় করে শ্রোতাদের প্রণাম,  এরপর অনুষ্কা শঙ্করের সেতারের মায়াবী ঝংকারে আবেগমাখা কণ্ঠ …
কতই না সহজ। তিনি পারেন। অরিজিৎ সিংয়ের কাছে সত্যিই সবই সহজ। একেবারে জীবনের সহজ পাঠ যেন!
প্লে ব্যাক করবেন না। বছর শুরুর প্রথম মাসেই এমন ঘোষণায় স্তম্ভিত-বিস্মিত হয়ে গিয়েছিলেন সঙ্গীতপ্রেমীরা। এর পর বার বার অনুরোধ ছিল অনুরাগীদের, সিনেমার গান যেন তিনি বন্ধ না করেন। অরিজিৎ আর কোনও শব্দ ব্যয় করেননি। এরপরই বলিউড তারকা আমির খানকে দেখা যায় সটান চলে আসতে গায়কের গ্রামের বাড়ি জিয়াগঞ্জে। কী কথা হয়েছিল দুই তারকার? ছবি ছড়িয়ে পড়লেও তা অবশ্য জানা যায়নি। মুম্বই থেকে মুর্শিদাবাদ ছুটে আসার নিশ্চয়ই কোনও কারণ ছিল আমিরের। অবশেষে সত্যিটা জানা গেল। সোমবার আমির খানের প্রযোজনা সংস্থা জানাল, আমির খান প্রযোজিত ‘এক দিন’ সিনেমার জন্য গান গেয়েছেন অরিজিৎ। অরিজিতের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে আমির লিখেছেন, ‘এক দিন’ ছবিতে প্লেব্যাক করার জন্য ধন্যবাদ অরিজিৎ। তোমার পরিবার এবং তোমার সঙ্গে দিনচারেক কাটানো সব মুহূর্তগুলো ভীষণ ‘ম্যাজিক্যাল’।১ মে মুক্তি পাওয়ার কথা এই সিনেমা। যার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাঁই পল্লবী ও জুনায়েদ খান। ছবিটি পরিচালনা করেছেন সুনীল পাণ্ডে এবং প্রযোজনা করেছেন আমির খান, মনসুর খান ও অপর্ণা পুরোহিত। এরপরই ফের জল্পনা শুরু হয়েছে, তাহলে কি সত্যিই প্লে ব্যাক করা ছাড়লেন না অরিজিৎ? যদিও এটা ঘোষণার আগেই রেকর্ডিং বলে জানা গেছে।
বাংলার ছেলে অরিজিৎ। মহানগরের অনুরাগীরা সবসময়ই মুগ্ধ শুধু তাঁর গানে নয়, আচরণেও। তারকা হয়েও সহজ-সরল জীবন়য়াত্রা মোহিত করে বার বার।রবিবার আরও এক বার মন জয় করে নিলেন। ভোলেননি বাংলার আর এক সঙ্গীতশিল্পী লোপামুদ্রা মিত্রের জন্মদিনের কথা। সটান হাজির হন ‘জিডি বিড়লা সভাঘরে’, যেখানে লোপামুদ্রা মিত্র-জয় সরকার আয়োজন করেছিলেন ‘সহজ পরব’ অনুষ্ঠানের। মাটির গান। মাটির মানুষ যেন হাজির সেখানে। মঞ্চে লোপামুদ্রা মিত্রকে নিয়েই উঠলেন। হল জন্মদিন উদ্‌যাপন। নিজের হাতে পায়েস খাইয়ে দিলেন লোপামুদ্রা মিত্রকে। আন্তরিকতা দেখে উষ্ণ করতালিতে ভরে তোলে গোটা সভাগৃহ।
শহর তিলোত্তমার মুগ্ধ হওয়া আরও বাকি ছিল। অরিজিৎ সিং প্লে ব্যাক ছাড়ার কথা জানিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু মঞ্চে অনুষ্ঠান করা ছাড়বেন এমনটা বলেননি। বাংলার ছেলে, তাই বাঙালিরা তাঁকে সুরের মঞ্চেই চেয়েছিলেন। বছরের দ্বিতীয় মাসেই সেই সারপ্রাইজ দিলেন অন্যতম এই কণ্ঠশিল্পী। অনুরাগীরা ভাসল আবেগে। সিনেমার গান নয়, তিলোত্তমা নতুন করে তাঁকে আবিষ্কার করল ধ্রুপদী সুরের জাদুতে। দীর্ঘ এক যুগ পর কলকাতায় ‘ইন্ডিয়া ট্যুরে’ একক অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে এসেছিলেন প্রয়াত সেতার সম্রাট রবিশঙ্করের মেয়ে অনুষ্কা শঙ্কর। নেতাজি ইন্ডোরের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতির কথা আগে কেউ ঘোষণা করেননি।মঞ্চে হঠাৎ করেই হাজির হন সঙ্গীতশিল্পী। জিয়াগঞ্জের ভূমিপুত্রকে পেয়ে উচ্ছ্বাসের বাঁধ ভাঙে নেতাজি ইন্ডোরে। অনুষ্কার সেতারের ঝংকারের সঙ্গে মিলল অরিজিতের কণ্ঠ।সেইসঙ্গে বিক্রম ঘোষের তবলা।  শ্রোতারা মোহাবিষ্ট। অরিজিৎ বেছে নিয়েছিলেন লক্ষ্মী শঙ্করের গাওয়া ও পণ্ডিত রবিশঙ্করের সুরারোপিত সেই কালজয়ী গান, ‘মায়া ভরা রাতি’। গান শেষে, অনুষ্কাকে বন্ধুত্বপূর্ণ আলিঙ্গন করেন। এর আগে  অরিজিৎ পরিচালিত ছবির মিউজিকে কাজ করেছেন অনুষ্কা শঙ্কর। মহানগর মুগ্ধ হয়ে থাকল এমন যুগলবন্দিতে। অনুষ্ঠানে  দর্শক-শ্রোতাদের সামনে সাষ্টাঙ্গে হাতজোড় করে প্রণামও করলেন অরিজিৎ।

আসলে অরিজিৎ সিংয়ের কাছে সত্যিই সবই সহজ। সবই তাঁর জীবনের সহজ পাঠ।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *