‘ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল ছবি, সেই প্রযোজককে প্রশ্ন করতে চাই’,কেন কেঁদে ফেললেন সৌরভের মা অজন্তা?
ইন্ডাস্ট্রিতে কাটিয়ে ফেলেছেন ১১ বছরেরও বেশি সময়। অভিনেতা সৌরভ দাস শুধু বাংলা নয় ভারতীয় বিনোদন জগতেও অভিনেতা হিসাবে এক পরিচিত নাম। তবে অভিনেতা হিসাবে পথ চলাটা মসৃণ ছিল না। এখন তিনি প্রযোজকও বটে। অভিনেতা যিশু সেনগুপ্তর সঙ্গে জুটি বেঁধে খুলেছেন নতুন প্রযোজনা সংস্থা ‘হোয়াই সো সিরিয়াস ফিল্মস’।
সম্প্রতি, হয়ে গেল যিশু এবং সৌরভের প্রযোজনা সংস্থার প্রথম ছবি ‘অভিমান’-এর মহরৎ। টালিগঞ্জের অন্যতম পুরনো স্টুডিয়ো ‘এনটিওয়ান’। সেখানেই হাজির হয়েছিলেন সবাই। আর এই স্টুডিয়োতেই জড়িয়ে রয়েছে সৌরভের অনেক স্মৃতি।এখানেই একসময় প্রযোজক এবং পরিচালকদের থেকে কড়া কথা শুনতে হয়েছিল সৌরভ এবং তাঁর মাকে। মঞ্চে উঠে সেরকমই এক অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিলেন অভিমানী সৌরভ।
২০০৯ সালে এই স্টুডিয়োতেই সৌরভের ছবি সঙ্গে করে ছেলের জন্য কাজের অনুরোধ নিয়ে এক প্রযোজকের কাছে এসেছিলেন অভিনেতার মা। প্রযোজক নাকি ছবি ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বলেছিলেন ‘স্পার্ক নেই’। সৌরভের কথায়, “একটা গ্রুপে আমি, মা, বাবা, বোন আমরা সবাই রয়েছি, সেখানে আমি লিখলাম আমার জীবনের বড়দিন, নতুন শুরু। মা উত্তরে বলেন, মনে পড়ছে ২০০৯-এ তোর ছবি নিয়ে গিয়েছিলাম ‘এনটিওয়ানে’। এক নামজাদা ব্যক্তি তোর ছবি ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। জানি না সেদিন তুই দেখেছিলি কিনা। আর আজ?”
সৌরভ সেদিন চুপ করে ছিলেন। মায়ের যাতে মনখারাপ না হয় তাই দাঁতে দাঁত চেপে সবটা সহ্য করেছিলেন অভিনেতা। নতুন প্রযোজক যোগ করলেন,“সেদিন আমি দেখেছিলাম ছবি ছুঁড়ে ফেলতে। তবে এমন ভাব করেছিলাম যেন দেখিনি,যাতে মা কষ্ট না পান।” তবে নিজের এই সাফল্যের সব কৃতিত্বই তিনি দিয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্র জগৎকে । সৌরভ বলেন, “এখন আমার বাবা, মা, বোন এবং আমার স্ত্রী সকলের চোখেই আমার সাফল্য জল এনে দেয়।”
ছেলের কথা শুনতে-শুনতে চোখ ছলছল করে ওঠে মায়েরও। আডিশন-এর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অভিনেতার মা অজন্তা দাস বলেন,“যে প্রযোজক স্পার্ক নেই বলেছিলেন তাঁর কাছে আমার একটাই প্রশ্ন ছিল সুযোগ না দিলে স্পার্ক আছে কি নেই বুঝবেন কী করে?আমি দিনের পর দিন বসে থেকেছি এই স্টুডিয়োতে। যাতে আমার ছেলের একটা সুযোগ হয়।কত পরিচালকের কাছে গিয়েছি সবাই ফিরিয়ে দিয়েছেন।”
‘অভিমান’-এর মহরৎ অনুষ্ঠান তাই যেন অনেক অপমান এবং অবজ্ঞার জবাব মা ও ছেলের কাছে। সৌরভের মায়ের কাছে তাই এই সাফল্য যেন সত্যি এক অবিশ্বাস্য ঘটনা।
