‘বাফটা’ জয় ‘বুং’-এর, নবাগত পরিচালকের হাত ধরেই বিশ্ব জয় ভারতের আঞ্চলিক সিনেমার

0

লন্ডনের রয়্যাল ফেস্টিভ্যাল হল-এ তখন উৎসবের আলো। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের আসরে ঘোষিত হল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ৭৯তম ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি অফ ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন আর্টস (বাফটা)অ্যাওয়ার্ডের মঞ্চে সেরার মুকুট উঠল এক ভারতীয় আঞ্চলিক ছবির মাথায়। বুং এনে দিল ভারতকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।


বাফটার মঞ্চে ইতিহাস গড়ল মণিপুরি ছবি ‘বুং’।৭৯ তম বাফটার মঞ্চে ‘বেস্ট চিলড্রেন্স অ্যান্ড ফ্যামিলি ফিল্ম’ বিভাগে সেরার মুকুট জয় করেছে ফারহান আখতার এবং রীতেশ সিধওয়ানি প্রযোজিত মণিপুরি ছবি ‘বুং’। মনোনীত তালিকায় ছিল হলিউডের বড় বাজেটের একাধিক ছবি। ‘আর্কো’, ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’, ‘জুট্রোপলিস ২’-র মতো হলিউডের মেগা বাজেটের ছবিকে পিছনে ফেলে মণিপুরের পটভূমিতে তৈরি সংবেদনশীল গল্পের বুং-মন জয় করে নিল।


ছবিটি পরিচালনা করেছেন লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী।লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী-র এটাই প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি।আঞ্চলিক ভাষার গল্প যে বিশ্বমঞ্চে কতটা আবেদন রাখতে পারে, ‘বুং’ তার উজ্জ্বল উদাহরণ। লন্ডনের জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে স্ত্রী শিবানী দান্ডেকরের সঙ্গে পুরস্কার গ্রহণ করতে মঞ্চে ওঠেন গর্বিত প্রযোজক ফারহান আখতার।এ ছাড়াও পরিচালক লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী, সহপ্রযোজক রীতেশ সিধওয়ানি, সুজাত সওদাগর, অ্যালান ম্যাকঅ্যালেক্স সহ বুং টিমের অনেকেই এ দিন উপস্থিত ছিলেন বাফটা-র আসরে।ট্রফি হাতে নিয়ে টিম তাঁদের এই সাফল্য উৎসর্গ করেন মণিপুরের সাধারণ মানুষকে, যাঁদের জীবন ও সংস্কৃতিই ছবির প্রাণকেন্দ্র। বুং-এর সাফল্যে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।


মণিপুরি ভাষায় ‘বুং’ শব্দের অর্থ ‘ছোট ছেলে’। গুগুন কিপগেন, বালা হিজাম নিংথৌজাম এবং আঙ্গোম সানামাতুম অভিনীত এই ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে এক ছোট্ট ছেলেকে ঘিরে। অশান্ত মণিপুরের প্রেক্ষাপটে এক ছোট্ট ছেলে ‘বুং’-এর সারল্য আর ভালোবাসার গল্প। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র এক কিশোর, যে তার হারিয়ে যাওয়া বাবাকে খুঁজে বের করার দৃঢ় সংকল্প নেয়। তার বিশ্বাস, বাবাকে ফিরিয়ে আনতে পারলেই মায়ের মুখে আবার হাসি ফুটবে।  সংঘর্ষে হারিয়ে যাওয়া বাবাকে খুঁজতে গিয়ে সংঘাত থামানোর যে বার্তা বুং তার শিশুসুলভ সারল্যের মধ্যে দিয়েছেস তাই এই সিনেমার মূল কথা।
পুরস্কারের মঞ্চে নবাগত পরিচালক লক্ষ্মীপ্রিয়া জানান,‘এতটা আসাটা একেবারে অজানা কোনও অভিযানে শেষ কয়েক ধাপ ওঠা। পর্বতে সবার আগে উঠছি সেটা জানতামই না’। সেই সঙ্গে অবশ্য বার্তাও দেন তিনি। বলেন, ‘এই মঞ্চকেই আমি ব্যবহার করতে চাই মণিপুরে শান্তি ফেরানোর মঞ্চ হিসাবে। প্রার্থনা করি কোনও সংঘাত যেন মানুষের যে ক্ষমাশীলতার ক্ষমতা তাকে নষ্ট করে না দেয়।’

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *