টাইব্রেকারে বসনিয়া–হার্জেগোভিনার কাছে হার, টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের বাইরে ‘আজ্জুরি’
কাগজে-কলমে এই লড়াই ছিল একেবারেই অসম। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১২ নম্বরে থাকা ইতালি, যেখানে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার অবস্থান ৭১—পার্থক্য প্রায় ৬০ ধাপ। জনসংখ্যার হিসেবেও ব্যবধান বিশাল-ইতালির প্রায় ৬ কোটি মানুষের দেশ, আর বসনিয়া মাত্র ৩৫ লাখের। অর্থনৈতিক শক্তির তফাত দলগত মূল্যেও। ইতালির ফুটবলারদের সম্মিলিত বার্ষিক আয় যেখানে প্রায় ১০০ কোটি ইউরো, সেখানে বসনিয়ার খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক তার সাত ভাগের এক ভাগও নয়!সবদিক থেকেই এগিয়ে থাকা ইতালির সামনে তাই এই ম্যাচটা কাগজে-কলমে ছিল সত্যিই একতরফা। কিন্তু মাঠের ফুটবল যে হিসেব মানে না, তা-ই প্রমাণিত হলো জেনিকায় বিলিনো পোলজে স্টেডিয়ামে।

ইউরোপিয়ান প্লে–অফ ফাইনালে শুরুটা ভালোই করেছিল ইতালি। ম্যাচের ১৫ মিনিটে মইজে কিনের গোলে এগিয়ে যায় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ দিকে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। নিশ্চিত গোল রুখতে গিয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো বাস্তোনি। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর থেকেই রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে ইতালি।

দ্বিতীয়ার্ধে সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগায় বসনিয়া। একের পর এক আক্রমণে ইতালির রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে তারা। গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোনারুম্মা একাধিক নিশ্চিত গোল বাঁচালেও শেষ রক্ষা হয়নি। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে হারিস তাবাকোভিচের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে সমতা ফেরায় বসনিয়া।

নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ে ১-১ সমতা বজায় থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই ভেঙে পড়ে ইতালির মানসিক দৃঢ়তা। টাইব্রেকারে পিও এসপোসিতো ও ব্রায়ান ক্রিস্তান্তের পেনাল্টি মিসে ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বসনিয়া। জয়সূচক শটটা নেন এসমির বাজরাকতারেভিচ, যিনি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বদলে বসনিয়ার হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই জয়ের ফলে বসনিয়া–হার্জেগোভিনা ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করল। অন্যদিকে ইতালির জন্য এটা আরেকটা বড় ধাক্কা। ২০১৮ সালে সুইডেন, ২০২২ সালে উত্তর মেসিডোনিয়ার পর এবার বসনিয়ার কাছে হেরে টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের মূলপর্বে উঠতে ব্যর্থ হলো ‘আজ্জুরি’রা।
১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ ও ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়নদের এই ব্যর্থতা ইতালীয় ফুটবলের জন্য কলঙ্কের দিন। ২০০৬ সালে ট্রফি জয়ের পর থেকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর কোনো ম্যাচ খেলা হয়নি তাদের। ফলে অন্তত ২০৩০ পর্যন্ত অপেক্ষা বাড়ল ইতালির।
ম্যাচ শেষে কোচ জেনারো গাত্তুসো স্বীকার করেছেন, কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইতালির ফুটবল। একই সুর শোনা গেছে লিওনার্দো স্পিনাজ্জোলার গলাতেও। তাদের মতে, এই ব্যর্থতা শুধু দলের নয়, সেই প্রজন্মেরও, যারা কখনও বিশ্বকাপে ইতালিকে খেলতে দেখেনি।
ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সফল দলগুলোর একটি ইতালি, কিন্তু বর্তমান বাস্তব বলছে, টি২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে যোগ্যতাঅর্জন করলেও, ফুটবলে গৌরবের অতীত আর বর্তমানের সংকটের মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে।
