জল-তরল খাবার ছাড়াই ১০ দিন! অবশেষে নিষ্কৃতি মিলল জীবনের! চিরঘুমে কোমায় থাকা হরিশ রানা

0

অবশেষে যন্ত্রণামুক্তি। জীবন থেকে নিষ্কৃতি।জীবনযুদ্ধের ইতি। ভারতের প্রথম গাজিয়াবাদের যুবককে ‘প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া’ অর্থাৎ লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম সরিয়ে দিয়ে ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’ঘটল। দিল্লির এইমসে প্রয়াত হলেন হরিশ রানা। দীর্ঘ ১৩ বছর কোমায় থাকার পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে তাঁর লাইফ সাপোর্ট তুলে নেওয়া হয়, এবং স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যু ঘটে তাঁর।

গত ১১ মার্চ ২০২৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট হরিশ রানার ক্ষেত্রে চিকিৎসা বন্ধ করার অনুমতি দেয়। সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে ‘মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার অধিকার’-এর পাশাপাশি ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার’-কেও স্বীকৃতি দিয়ে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর  তাঁকে দিল্লির এইমসে স্থানান্তরিত করা হয়, যেখানে চিকিৎসকরা নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া মেনে ধাপে ধাপে লাইফ সাপোর্ট ব্যবস্থা সরিয়ে দেন।জানা গেছে, গত ১০ দিন ধরে তাঁকে খাবার ও জল দেওয়া বন্ধ হয়েছিল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্যাসিভ ইউথানেশিয়া পদ্ধতিতে বেশ কয়েকদিন পুষ্টি থেকে বঞ্চিত থাকার পরেও তাঁর প্রাণ ছিল। সূত্রের খবর, ১৫ মার্চ তাঁর তরল খাবার বন্ধ করা হয় ও ১৭ মার্চ থেকে জল দেওয়াও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপরও গত ১০ দিন ধরে খাবার বা জল ছাড়া একইরকম ছিলেন।তবে  ব্যথানাশক ও প্রয়োজনীয় ওষুধ চলছিল বলেই জানা গেছে যাতে কোনও কষ্ট বা ব্যথা আর না পান মৃত্যুর মুহূর্তে। এরজন্য অ্যানাস্থেশিয়া ও প্যালিয়েটিভ মেডিসিনের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ সীমা মিশ্রের নেতৃত্বে একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে বি টেক পড়ুয়া হিসেবে পড়াশোনা চলাকালীন পেয়িং গেস্ট আবাসনের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর মস্তিষ্কে আঘাত পান হরিশ রানা। সেই দুর্ঘটনার পর থেকেই তিনি সম্পূর্ণ অচেতন অবস্থায়, অর্থাৎ ভেজিটেটিভ স্টেটে ছিলেন। গত ১৩ বছর ধরে তাঁকে কৃত্রিম উপায়ে খাওয়ানো ও চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য ছিল। এই পরিস্থিতিতে পরিবার আইনি লড়াই শুরু করে, যাতে তাঁকে এই দীর্ঘ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়া যায়। অবশেষে সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদন মঞ্জুর করে।

হরিশ রানার বাবা অশোক রানা এই দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘কোনও বাবা-মা সন্তানের জন্য এমনটা চাইবেন না। আমরা ১৩ বছর ধরে এই লড়াই চালিয়েছি।’ তিনি আরও জানান, ‘হরিশ একসময় পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ছিলেন’। অবশেষে যন্ত্রণা ও জীবন থেকে মুক্তি মিলল হরিশ রানার।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *