হাঁটুর সমস্যা, বাতের ব্যথা… আর সম্ভব নয় জেনেই ২১ বছরের কেরিয়ার থামালেন সাইনা নেহওয়াল

0

আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন কয়েকবছর। কিন্তু শরীর দেয়নি। অবশেষে র‍্যাকেট থামালেন শাটল-কুইন সাইনা নেহওয়াল। যিনি ভারতকে ব্যাডমিন্টনে নতুন করে সাফল্যের রুপোলি রেখা দেখিয়েছিলেন, স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, সাফল্য এনে দিয়েছিলেন। দুটোই মাত্র অপশন ছিল সাইনার কাছে। পুরো ফিট হয়ে কোর্টে ফিরতে পারবেন কিনা, আর যদি না পারেন, তা হলে হয়তো ব্যাডমিন্টনকে বিদায় জানানো। হাঁটুর চোট সারিয়ে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন, কিন্তু ২০২৬ এ থামালেন দীর্ঘ ২১ বছরের কেরিয়ার। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে ব্রোঞ্জজয়ী এই শাটলার পডকাস্ট অনুষ্ঠানে এসে বলেন, ‘আমি আসলে দু’বছর আগেই খেলা বন্ধ করে দিয়েছি। আমি মনে করেছি নিজের ইচ্ছেতে খেলায় এসেছি এবং নিজের ইচ্ছেতেই বেরিয়ে যাচ্ছি। তাই আলাদা করে ঘোষণা করার প্রয়োজন মনে করিনি।’ ৩৫ বছর বয়সেই কেরিয়ারে ইতি টেনে সাইনা লেখেন, ‘আমার অবসর ঘোষণাটা এমন কোনও বড় ব্যাপার নয়। এ ভাবে আর টানতে পারছিলাম না। হাঁটুর সমস্যায় কাবু হয়ে পড়ছিলাম বারবার। তাই সরে আসার বিষয়ে মনস্থির করি।’ এরপর সাইনা আরও বলেন,‘আর হয়ত আমি পারতামও না। আমার কাছে খেলাটা বেশ কঠিন হয়ে উঠেছে।নিয়মিত ট্রেনিং করা আমার পক্ষে আর সম্ভব ছিল না।হাঁটু ফুলে যেত দু’তিন ঘণ্টা অনুশীলনেই। বাবা-মা ও কোচকে জানিয়েছিলাম।’ সাইনা আরও জানান, তাঁর হাঁটুর কার্টিলেজ পুরোপুরি ক্ষয় হয়ে গিয়েছে এবং আর্থ্রাইটিসে ভুগছেন তিনি।


প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে লন্ডন অলিম্পিক থেকে ব্রোঞ্জ নিয়ে ফিরেছিলেন সাইনা। হরিয়ানার মেয়ের এই সাফল্য জোয়ার এনেছিল ভারতে। তাঁকে দেখে তরুণ প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হয়ে এই খেলাকে পেশা হিসেবে বেছেও নিয়েছে। বলা হয়, এই ট্যালেন্ট উত্তরাধিকার সূত্রে তাঁর বাবা ও মায়ের থেকে পেয়েছেন সাইনা।কারণসাইনার রক্তেই রয়েছে ব্যাডমিন্টন।তাঁর মা উষা নেহওয়াল স্টেট লেভেল ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন ছিলেন।বাবা হরবীর সিং নেহওয়ালও ব্যাডমিন্টনে পরিচিত মুখ।প্রথম ভারতীয় হিসেবে সাইনা বিশ্ব জুনিয়র ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে জিতেছিলেন।সিনিয়র স্তরে সাইনা নেহওয়ালই প্রথম ভারতীয় হিসেবে বিশ্বক্রমতালিকার শীর্ষে উঠেছিলেন। একটা সময় সাইনাই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অর্থ উপার্জনকারী ব্যাডমিন্টন প্লেয়ার ছিলেন। সাফল্যের জন্য সাইনা ২০০৯ সালে পেয়েছিলেন অর্জুন পুরস্কার। ২০১০ সালে তিনি পেয়েছিলেন রাজীব গান্ধী খেলরত্ন পুরস্কার এবং ২০১০ সালে তিনি পেয়েছিলেন পদ্মশ্রী।সাইনা দেশের হয়ে কমনওয়েলথ গেমসে ৫টি পদক পেয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে ৩টি সোনা, একটি রুপো ও একটি ব্রোঞ্জ।২০১৬ রিও অলিম্পিকের পর থেকেই হাঁটুর চোটে নাজেহাল হয়ে পড়েছিলেন।২০২৬ সালে থামলেন তিনি।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *