চাকরি করেননি, পেশা করেছিলেন ফুটবলকেই! ইলিয়াস পাশার প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ফুটবলমহল
২২ জানুয়ারি। এমনিতেই বাংলার ফুটবলের শোকের দিন। ৪ বছর আগে এই দিনেই ময়দান হারিয়েছিল সুভাষ ভৌমিককে। একইদিনে ফিরল আরও শোক। প্রয়াত ইলিয়াস পাশা। চিরতরে হারাল যেন লাল হলুদের ১৭ নম্বর জার্সি। বৃহস্পতিবার সকালে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৬১ বছর।

ভারতীয় ফুটবলে বেঙ্গালুরু থেকেই মাঠ মাতিয়েছিলেন আমেদ খান, অরুময় নৈগম, উলগানাথন, বাবু মানি, কার্লটন চ্যাপম্যানের মতো ফুটবলাররা। এদের মতোই আরও এক ফুটবলার উঠে আসেন, তিনি ইলিয়াস পাশা। ১৯৯০ সালে মহমেডান খেলতে আসেন। কিন্তু পরের বছরই ইলিয়াস পাশা যোগ দেন ইস্টবেঙ্গলে। গায়ে ওঠে ১৭ নম্বর জার্সি। ডানদিক দিয়ে পাশার ওভারল্যাপ অনেকটাই ইস্টবেঙ্গলের রাইট উইঙ্গারের কাজ করতো। ১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ইলিয়াস পাশা ছিলেন ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের অন্যতম স্তম্ভ। অধিনায়ক ছিলেন ১৯৯৩ সালে I পাশার অধিনায়কত্বে ইস্টবেঙ্গল কাপ উইনার্স কাপে ইরাকের শক্তিশালী দল আল জাওরার বিরুদ্ধে ৬-২ গোলে জয় পেয়েছিল। এছাড়াও সেই বছরেই নেপালের কাঠমান্ডু থেকে জিতে এসেছিলেন ওয়াই ওয়াই কাপ।

ইস্টবেঙ্গলে থাকাকালীন ইলিয়াস পাশা ৫ বার কলকাতা লিগ, ৪ বার ডুরান্ড কাপ, ৫ বার শিল্ড, ২ বার রোভার্স কাপ, ৪ বার এয়ারলাইন্স গোল্ড কাপ এবং একবার করে ফেডারেশন কাপ, বরদলুই ট্রফি, সুপার কাপ, ম্যাকডোয়েল কাপ, এস.এস.এস. ট্রফি এবং এ.টি.পি.এ. শিল্ড জয়ী দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

২০১২ সালে ক্লাবের প্রতিষ্ঠা দিবসের সময় বেঙ্গালুরু থেকে আহমেদ খান ও ইলিয়াস পাশাকে নিয়ে এসে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব তাদের সংবর্ধিত করেI ২০১৯ সালেও ক্লাবের শতবর্ষের মঞ্চে সকল অধিনায়কের সঙ্গে পাশাকেও সম্মানিত করা হয়I সেই বছরই ১৩ আগস্ট প্রাক্তনদের প্রদর্শনী ম্যাচে পাশা খেলেওছিলেনI খেলোয়াড়ি জীবনে চাকরির প্রস্তাব পেলেও পাশা তা গ্রহণ করেননি। বেঁচেছিলেন ফুটবলকে সঙ্গী করেই।

সেই পাশাই আর নেই। তবে তাঁর নাম চিরকালীন হয়ে থেকে যাবে ইস্টবেঙ্গলেই।পাশার প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ভারতীয় ফুটবল মহল। ইলিয়াস পাশার প্রয়াণে ক্লাবের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়I
