দরজা খোলা থাকলেও আমেরিকায় বিশ্বকাপ খেলবে না ইরান! সাফ বার্তা সে’দেশের ক্রীড়ামন্ত্রীর
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র তিন মাস বাকি। কিন্তু ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ শুরুর আগেই রাজনৈতিক উত্তেজনার ছায়া পড়েছে টুর্নামেন্টে। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ ডোনিয়ামাল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যাদের হাতে তাদের নেতার রক্ত লেগে আছে, সেই দেশের মাটিতে খেলতে যাবে না ইরানের জাতীয় ফুটবল দল। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘যে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে, কোনো পরিস্থিতিতেই তাদের দেশে আমরা বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারি না।’
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করছে তেহরান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, গত কয়েক মাসে যুদ্ধ ও হামলায় ইরানের বহু মানুষের প্রাণ গেছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাহীন দেশে খেলতে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ড্র অনুযায়ী, ইরান পড়েছে গ্রুপ ‘জি’-তে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ড। সূচি অনুযায়ী ইরানের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার কথা -দুটি লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি সিয়াটলে।
এদিকে সম্প্রতি আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ফিফা-র প্রস্তুতি সভায় একমাত্র অনুপস্থিত দল ছিল ইরান, যা নিয়ে তখন থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল। তবে পরিস্থিতি নিয়ে এখনো আশাবাদী ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে অংশ নিতে চাইলে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন ট্রাম্প। ইনফ্যন্তিনোর মতে, বর্তমান বিশ্বে অস্থিরতার সময়ে বিশ্বকাপের মতো বড় ক্রীড়া আয়োজন মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার সুযোগ এনে দিতে পারে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, শেষ পর্যন্ত যদি ইরান বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্তেই অনড় থাকে, তাহলে কী করবে ফিফা? অতীতে রাজনৈতিক কারণে আয়োজক দেশ পরিবর্তনের নজির রয়েছে। ফলে বিশ্ব ফুটবলের এই বড় আসর ঘিরে আগামী দিনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
