মিটেও সমস্যা মিটল না! বৈঠকে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীর ঘোষণা ১৪ ফেব্রুয়ারি শুরু আইএসএল

অন্ধকারে অনিশ্চয়তায় ডুবতে থাকা ভারতীয় ক্লাব ফুটবলকে বাঁচাতে ফিফার কাছেই ভার্চুয়ালি আর্জি জানিয়েছিলেন সুনীল ছেত্রী, গুরপ্রীত সিং সান্ধুরা। ফিফাকে হস্তক্ষেপ করতে হয়নি, মধ্যস্থতা করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। অবশেষে নতুন বছরে মাঠে বল গড়াতে চলেছে। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য জানিয়েছেন, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৪ দল নিয়ে শুরু হবে মরশুমের আইএসএল।দিল্লিতে ক্লাবের প্রতিনিধি, এআইএফএফ এবং ক্রীড়ামন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠকের পরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরে সাংবাদিক বৈঠকে এই নিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী জানান, ‘অনেকদিন ধরেই আইএসএল নিয়ে জল্পনা চলছিল। কিন্তু মঙ্গলবার সরকার, ফুটবল ফেডারেশন ও ১৪টি ক্লাব মিলে বৈঠকের পরে শুরুর তারিখ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সব ক্লাবই অংশ নেবে এই টুর্নামেন্টে।
এআইএফএফের প্রেসিডেন্ট কল্যাণ চৌবে বিশদে জানিয়েছেন লিগ আয়োজন নিয়ে। হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে মোট ৯১টি ম্যাচ খেলা হবে।তবে ঠিক কীভাবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ফরম্যাট ঠিক করার কথা বলা হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, হোম এবং অ্যাওয়ে ফরম্যাটে খেলা হওয়ার পর নক আউট পর্ব হবে।এও জানা গেছে, আইএসএল সম্পূর্ণভাবে সেন্ট্রালাইজড ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হবে গোয়ায়। সেখানে তিনটি ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফাতোরদার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম, ভাড্ডেমের তিলক ময়দান এবং বাম্বোলিমের জিএমসি স্টেডিয়ামে খেলাগুলি হতে পারে। আইএসএলের পাশাপাশি একইসঙ্গে আই লিগও আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন কল্যাণ চৌবে। সেক্ষেত্রে ১১টি ক্লাব এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। সেখানে ৫৫টি ম্যাচ হবে।
কিন্তু টাকা জোগাড় কীভাবে হবে? এই প্রশ্নের উত্তরে কল্যাণ চৌবে জানান, আইএসএল সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য ২৫ কোটি টাকার একটি পুল তৈরি করা হয়েছে। এই নিয়ে কল্যাণ চৌবে বলেন, ‘এই তহবিলের ১০ শতাংশ দেবে ফেডারেশন। ৩০ শতাংশ আসার কথা ছিল কমার্শিয়াল পার্টনারের থেকে। যেহেতু এখনও আমাদের কোনও কমার্শিয়াল পার্টনার নেই, তাই এই বিষয়ে সাহায্য করবে এআইএফএফই। এটা স্পষ্ট, আর্থিক বিষয়টি নিয়ে এখনও জট কাটেনি। লিগের স্বার্থে প্রতিটি ক্লাবই ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি হিসাবে ১ কোটি টাকার কিছু বেশি দিতে রাজি হয়েছে।
কে সম্প্রচার করবে, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। নতুন করে টেন্ডার ডাকবে ফেডারেশন। এরপর ঠিক হবে, কারা সম্প্রচারের দায়িত্ব পাবে।
এতকিছুর পরেও এফসি গোয়া, ওড়িশা এফসি এখনও নিমরাজি। দুই ক্লাবকেই ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। ক্রীড়ামন্ত্রী অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন, দল কমলেও আইএসএল হবেই। এ’টুকুই ভরসা।
