শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ নীতি! কী খসড়া তৈরি করল কর্ণাটক সরকার?
শিশুদের দিনের পর দিন স্মার্টফোনে সময় কাটানো শুধুই কি অভ্যাস নাকি মানসিক স্বাস্থ্যে নতুন উদ্বেগ ? স্মার্টফোনের প্রতি বাড়তে থাকা আসক্তি সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যে নতুন সমস্যা তৈরি করছে। এই সমস্যার সমাধানে কী করণীয় ? ১৬ বছরের নীচে ব্যবহার করা যাবে না সোশ্যাল মিডিয়া , দিনে ১ ঘন্টার বেশি স্ক্রিন টাইম নয় এবং সন্ধে ৭টার পর ইন্টারনেট বন্ধ রাখতে হবে। এমনই কড়া নির্দেশ এবার কর্ণাটক সরকারের।
সম্প্রতি, শিশু-কিশোরদের অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম নিয়ন্ত্রণে একাধিক কড়া সুপারিশসহ একটি খসড়া ‘ডিজিটাল ওয়েলবিইং’ নীতি প্রকাশ করা হয়। এই খসড়া নীতিতে প্রতিদিন পড়াশোনার বাইরে বিনোদনের জন্য মোবাইল ব্যবহারের সময় সর্বোচ্চ এক ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কমবয়সিদের জন্য সন্ধে ৭টার পর মোবাইল ইন্টারনেট ডেটা বন্ধ করে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। শিশুদের জন্য বয়সভিত্তিক ডিভাইস, বিশেষ ‘চাইল্ড প্ল্যান’ এবং প্রয়োজনে ‘অডিয়ো-অনলি’ ফোন ব্যবহারের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
গত ৬ মার্চ কর্ণাটক বিধানসভায় আগামী অর্থবর্ষের বাজেট পেশ হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ঘোষণা করেন, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছেন তিনি। তাঁর এই প্রস্তাবে মতামত দিয়েছেন শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরের বিধায়কেরাই।
এই নীতিতে স্ক্রিন আসক্তিকে শুধু অভ্যাস নয়, বরং একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা হয়েছে। যা স্কুল, পরিবার এবং সরকারের যৌথ উদ্যোগে মোকাবিলা করতে হবে। লক্ষ্য হল ছোটদের প্রযুক্তি ব্যবহারে দায়িত্বশীল করে তোলা এবং তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর, ‘কর্নাটক স্টেট মেন্টাল হেলথ অথরিটি’ এবং ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরোসায়েন্স’-এর যৌথ উদ্যোগে এই নীতি তৈরি হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, স্কুলে ডিজিটাল ব্যবহার, অনলাইন নিরাপত্তা, গোপনীয়তা, সাইবার বুলিং এবং দায়িত্বশীল আচরণ নিয়ে পড়ানো বাধ্যতামূলক করতে হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, শিশুদের জন্য বিশেষ ‘চাইল্ড প্ল্যান’- সহ মোবাইল ব্যবহার চালু করা হতে পারে, যেখানে ‘অডিয়ো-অনলি’ ফোনের ব্যবস্থাও থাকবে। এ ছাড়া পড়াশোনার বাইরে ‘স্ক্রিন টাইম’ সর্বোচ্চ এক ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ রাখার কথাও বলা হয়েছে। অভিভাবকদের বলা হয়েছে মোবাইল কম ব্যবহার করে সন্তানদের সময় দেওয়া , বাইরে খেলাধুলার প্রতি শিশুদের ঝোঁক তৈরি করা , দলগত কার্যক্রম,বই পড়ার মতো বিষয়গুলিতে উৎসাহ দেওয়া।
স্কুলগুলিতে ‘ডিজিটাল সেফটি ও ওয়েলনেস কমিটি’ গঠন করা হবে, যেখানে শিক্ষক, অভিভাবক, ছাত্রছাত্রী এবং সাইবার ক্রাইম পুলিশের প্রতিনিধিরাও থাকতে পারেন। এই কমিটি ছাত্রদের স্ক্রিন ব্যবহারের উপর নজর রাখবে এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করবে। পাশাপাশি, ‘ডিজিটাল রিপোর্ট কার্ড’, ‘ডিজিটাল ডিটক্স সপ্তাহ’ বা ‘নো-টেক ডে’-এর মতো উদ্যোগও নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া পরিবারগুলিকেও ‘ডিজিটাল ফাস্টিং’ বা নির্দিষ্ট সময় প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের পরিবর্তে স্কুল যোগাযোগে আবার ডায়েরি ব্যবহারের কথাও ভাবা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই খসড়া নীতি জনমত গ্রহণের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া বাজেট বক্তৃতায় ১৬ বছরের নিচের শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে, ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটি সুরক্ষিত ও সুষম ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ।
