‘রকি অউর রানি কি প্রেম কহানি’র চন্দনই যেন বাস্তবের কুমার! কী ঘটেছিল নৃত্যশিল্পীর সঙ্গে?
মনে আছে ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’ ছবির কথা? ছবিতে আলিয়া ভাট ওরফে রানির বাবা চন্দন চ্যাটার্জির চরিত্রে টোটা রায় চৌধুরী, একজন পেশাদার কত্থক নৃত্যশিল্পী। ছবির এক দৃশ্যে তিনি বলেন যে, কীভাবে তিনি তার বাবা এবং বন্ধুদের দ্বারা বঞ্চিত এবং কটাক্ষের শিকার হয়েছিলেন, কারণ তিনি পুরুষ হয়ে কত্থক নৃত্যকে ভালোবাসতেন। সমাজের কটাক্ষের কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগে ভেঙে পড়েন, শুধুমাত্র নাচ ভালোবাসার কারণেই তাঁকে পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে অপমান সহ্য করতে হয়েছিল। সেই ছবি অনেক দর্শককেই ভাবতে বাধ্য করেছিল, কেন এখনও কিছু শিল্পকে নির্দিষ্ট লিঙ্গের সঙ্গে জুড়ে দেখা হয়।
বাস্তব জীবনেও এক নৃত্যশিল্পীর গল্প যেন সেই প্রশ্নেরই উত্তর দেয়। ছোটবেলা থেকেই ঘুঙুর পরে নাচ শেখার জন্য কটাক্ষ শুনতে হয়েছিল তাঁকে। অনেকেই বলত, “ছেলেরা এভাবে নাচে না।” কেউ কেউ আবার সরাসরি অপমানও করতেও ছাড়ত না। কিন্তু সেই সব কথা উপেক্ষা করেই নিজের স্বপ্ন আঁকড়ে ধরেছিলেন তিনি। সময়ের সঙ্গে তিনিই হয়ে ওঠেন একজন প্রতিষ্ঠিত কত্থক নৃত্যশিল্পী। সম্প্রতি তিনি পারফর্ম করেছেন আইসিসি মেনস টি২০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চেও।
তিনি হলেন কুমার শর্মা। নাচের প্রতি তাঁর ভালোবাসার শুরু মাত্র ১০ বছর বয়সে। একদিন টেলিভিশনে মাধুরী দীক্ষিত-কে ‘দেবদাস’ ছবিতে নাচতে দেখে মুগ্ধ হয়ে যান তিনি। সেই থেকেই কত্থক শেখার ইচ্ছে জাগে। বাড়িতেই পায়ে ঘুঙুর বেঁধে অনুশীলন শুরু করেন। কিন্তু চারপাশের সমাজ তখনও প্রস্তুত ছিল না তাঁর স্বপ্নকে সহজে গ্রহণ করার জন্য। বন্ধুবান্ধব থেকে শুরু করে অনেকেই প্রশ্ন তুলত, একজন ছেলে কেন শাস্ত্রীয় নাচ শিখছে? এমনকি কয়েকজন শিক্ষকও তাঁকে নিরাশ করার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁদের মতে, এই ধরনের নাচ নাকি ছেলেদের জন্য নয়। তবুও নাচের প্রতি তাঁর ভালবাসা কমেনি। বারবার অডিশন দিয়ে অবশেষে একটি ডান্স রিয়্যালিটি শো-তে সুযোগ পান তিনি। সেই মঞ্চ থেকেই ধীরে ধীরে তাঁর পরিচিতি বাড়তে থাকে। সময়ের সঙ্গে তাঁর প্রতিভা আরও স্বীকৃতি পায়, এমনকি তাঁর নাচ দেখে প্রশংসা করেন স্বয়ং মাধুরী দীক্ষিত-ও।
বহু বাধা, কটাক্ষ আর সন্দেহের মাঝেও তিনি প্রমাণ করেছেন, শিল্পের কোনও লিঙ্গ নেই। আছে শুধু প্রতিভা, পরিশ্রম আর নিজের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়ার সাহস।
