৩৭ দিন পর জামিন মেসিকে আনার মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তর, কোন শর্তে ছাড়া পেলেন তিনি?

৩৭ দিন পর জেলমুক্তি শতদ্রু দত্তর। ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং দুটি সিকিউরিটি বন্ডের বিনিময়ে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দেন বিচারক। সেইসঙ্গে শর্তও রয়েছে। রাজ্য ছাড়তে পারবেন না মেসি অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত। সোমবার বিধাননগর জেলা আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করে।
গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসিকে আনা নিয়ে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। ভাঙচুর চলে গ্যালারি থেকে মাঠে। দেড় ঘণ্টার জন্য নির্ধারিত অনুষ্ঠান মাত্র কুড়ি মিনিটের মধ্যেই শেষ করে মাঠ ছাড়েন মেসি। এরপরই বিমানবন্দরে মেসির সঙ্গে যেতে গেলে, শতদ্রু দত্তকে সেখান থেকেই গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই থেকেই হেফাজতেই দিন কেটেছে বিষড়ানিবাসীর।
অভিযোগ ওঠে, মাঠে মেসিকে দেখতে এত লোক ঢুকে পড়েছিলেন, দর্শকরা প্রচুর টাকার টিকিট কেটেও মাঠে মেসিকে দেখতেই পাননি। এরপরই ক্ষোভ আছড়ে পড়ে। যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
প্রথমে ১৪ দিন পুলিশি হেফাজতে ছিলেন তিনি। ২৮ ডিসেম্বর দীর্ঘ সওয়ালের পর জামিন খারিজ হয়ে গিয়েছিল তাঁর। শতদ্রুর বিরুদ্ধে দু’টি মামলা দায়ের হয়েছিল। প্রথমটি হয়েছিল শতদ্রুর বিরুদ্ধে। দ্বিতীয় মামলা হয়েছিল ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের বিষয়ে। বিধাননগর থানায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু হয়েছিল। যুবভারতী বিশৃঙ্খলা নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছিল।তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। বিষড়ার বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়। শতদ্রুর আইনজীবী সৌম্যজিৎ রাহা আদালতে সওয়াল জবাবে যুক্তি দেন, তাঁর মক্কেলের অতীতে হায়দরাবাদ, দিল্লি ও মুম্বইয়ে সফলভাবে মেসির ইভেন্ট আয়োজন করার রেকর্ড রয়েছে। গত ৭ নভেম্বর বিধাননগর পুলিশের থেকে যথাযত ‘নো-অবজেকশন’ নেওয়া হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরেই পরিস্থিতি বিগড়ে যায়, এতে আয়োজকের সরাসরি গাফিলতি নেই।তিনি কেন দায়বদ্ধ হবেন?রাজ্য সরকারের তরফে আইনজীবী অমিতাভ লাহা বলেছিলেন, উনি (শতদ্রু দত্ত) ইভেন্টের আয়োজন করেছেন। কে সামনে থাকবে, কে সামনে যাবে, সেটা ঠিক করবেন আয়োজকরা।শেষপর্যন্ত যদিও অন্তর্বর্তী জামিন পান শতদ্রু দত্ত।
