রাজকীয় জীবন ছেড়ে তপস্যার পথে মহাবীর-আজও তাঁর দর্শন মানবতার পথ দেখায়

0


প্রতি বছর মহাবীর জয়ন্তী এলেই যেন এক অন্যরকম শান্তির আবহ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। জৈন সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান এই উৎসব শুধু একটি জন্মজয়ন্তী উদযাপন নয়, বরং এক মহান জীবনের আদর্শকে নতুন করে স্মরণ করার দিন। জৈন ধর্মের ২৪তম তীর্থঙ্কর মহাবীর স্বামীর জন্মদিন উপলক্ষেই পালিত হয় এই বিশেষ দিনটি, যার গুরুত্ব ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে মানবতার বিস্তৃত পরিসরেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে বিহারের কুণ্ডলগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মহাবীর। রাজপরিবারে জন্ম হলেও বিলাসবহুল জীবন তাঁকে আকৃষ্ট করতে পারেনি। মাত্র ৩০ বছর বয়সে তিনি সংসার ত্যাগ করে বেছে নেন কঠোর তপস্যার পথ। দীর্ঘ ১২ বছরের সাধনার পর তিনি লাভ করেন আত্মজ্ঞান, আর সেই থেকেই শুরু হয় তাঁর মানুষের জন্য পথ দেখানোর যাত্রা। মহাবীর স্বামীর জীবনের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হল তাঁর দর্শনের সরলতা এবং গভীরতা। তিনি বিশ্বাস করতেন, সত্যিকারের শক্তি লুকিয়ে থাকে সংযম ও সহমর্মিতায়। তাই অহিংসা, সত্যবাদিতা, অনাসক্তি—এই মূল্যবোধগুলিকেই তিনি জীবনের মূল মন্ত্র হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর মতে, শুধু মানুষের প্রতিই নয়, সমস্ত জীবের প্রতি সমান সহানুভূতি দেখানোই প্রকৃত ধর্ম।আজকের দিনে যখন সমাজে হিংসা, বিভাজন এবং অসহিষ্ণুতা ক্রমশ বাড়ছে, তখন মহাবীরের শিক্ষা যেন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। তাঁর দেখানো পথ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শান্তি বাইরে নয়, মানুষের নিজের মধ্যেই নিহিত।
মহাবীর জয়ন্তী উপলক্ষে দেশজুড়ে জৈন মন্দিরগুলিতে বিশেষ পুজো, শোভাযাত্রা ও ধর্মীয় আয়োজন করা হয়। ভক্তরা উপবাস পালন করেন, দান-ধ্যান করেন এবং মহাবীরের বাণী শ্রবণ করেন। তবে এই দিনের আসল তাৎপর্য লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর উপলব্ধিতে—নিজেকে শুদ্ধ করা এবং অন্যের প্রতি সহমর্মিতা গড়ে তোলা। মহাবীর জয়ন্তী তাই শুধু একটি উৎসব নয়, এটা এক চিরন্তন শিক্ষা-যেখানে মানুষ শেখে কীভাবে কমে নয়, বরং সংযমেই প্রকৃত পূর্ণতা খুঁজে পাওয়া যায়।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *