করুণ পরিণতি দূরদর্শনে মহালয়ার ‘মহিষাসুর’-এর! নিঃশব্দেই প্রয়াত অমল চৌধুরী
বছর বছর দেবী দুর্গার পূজো হয় মর্ত্যে। পদলগ্নে থাকেন মহিষাসুর। কেই বা আর তাঁকে ভাল চোখে দেখে! তবু পূজিত হন তিনিও। কিন্তু বাস্তবে?
মহালয়ায় মহিষাসুর রূপী অমল কুমার চৌধুরীর জীবনের খোঁজও শেষসময়ে কেউ রাখেনি। প্রবল আর্থিক কষ্ট আর একাকীত্ব নিয়েই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন নয়ের দশকের দূরদর্শনের জনপ্রিয় ‘মহিষাসুর’ অমল কুমার চৌধুরী। থামল সেই বিখ্যাত অট্টহাসি।এক সময় মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠের সঙ্গে যাঁর অট্টহাসি বাঙালির ড্রয়িংরুমে শিহরণ জাগাত, ভয় ধরাতো। অসুরের ভুমিকা ছাড়াও কখনও যমরাজের অভিনয়, কখনও সেনাপতির অভিনয় করেছেন অমল চৌধুরী।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ম্লান হয় সেই অট্টহাসি। প্রচারের আলো থেকেও সরে যান। ভুলে যায় টালিগঞ্জের স্টুডিও পাড়াও। সঙ্গী হয় একাকীত্ব আর আর্থিক অনটন। ছোটদের আঁকা শেখাতেন। থাকতেন টিনের চালের বাড়িতে। দূরদর্শনের পর্দায় তাঁকে অসুর অবতারে দেখার পর থেকে এলাকার অনেকেই তাঁকে ‘অসুর কাকু’ বলে ডাকতেন।তাঁর শোচনীয় আর্থিক অবস্থার কথা সংবাদমাধ্যমে উঠে এলেও, ভাগ্যের বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। নিভৃতেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। দিন কাটত সাধারণভাবেই।
পৌষ সংক্রান্তির দিনই এল দুঃসংবাদ। অশোকনগরে থাকতেন। কিছুদিন আগে দুর্ঘটনায় আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন অবিবাহিত অমল চৌধুরী। বুধবার বছর ৬৬ বয়সী অমল চৌধুরীর নিথর দেহ শেষমেষ বাড়ির তালা ভেঙে উদ্ধার করা হয়। এরপর অশোকনগর থানার পুলিশ দেহ, ময়না তদন্তের জন্য বারাসত মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যায়।কে জানত, বাস্তবে মহিষাসুরের এমন করুণ পরিণতি!
মানুষকে ওপার আনন্দ দিয়ে দুঃখকে সঙ্গী করেই দুর্গালোকে চলে গেলেন অমল। তিনি হারিয়ে গেলেও, দুঃখ ভুলে গেলেও মানুষ ভুলতে পারবে না তাঁর অট্টহাসি। মহালয়ার মনে বাঙালির কানে বাজবেই মহিষাসুর রূপী অমল কুমার চৌধুরীর সেই বিখ্যাত অট্টহাসি।
