ফাইনালে টিম ইন্ডিয়া, সঞ্জুর ব্যাটিংয়ে রানের পাহাড়, অক্ষরের ক্যাচে ভারতেরই বাজিমাত, বিদায় ইংল্যান্ডের

0

যে ভারত ক্যাচ মিস নিয়ে চিন্তায় ছিল, সেই ভারতই পার্থক্য গড়ে দিল আসাধারণ ক্যাচ নিয়ে। ফাইনালে টিম ইন্ডিয়া। ট্রফির লড়াইয়ে আহমেদাবাদে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে সূর্যের দল। মুম্বইতে রানের পাড়ার গড়লেও, রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে  ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারাল ভারত। তবে মুম্বইতে সমান তালে পাল্লা দিয়েছিল যেন ইংল্যান্ডও। ভারতের ৭ উইকেটে ২৫৩ রানের জবাবে শেষপর্যন্ত ইংল্যান্ড থেমেছে  ৭ উইকেট হারিয়ে ২৪৬ রানে।
ভারতের বিশাল রানেও জ্যাকব বেথেল একাই শেষপর্য়ন্ত রোমাঞ্চ বজায় রেখেছিলেন। শেষপর্যন্ত শেষ ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি লাইন থেকে হার্দিকের অসাধারণ থ্রুতে রানআউট হন সেঞ্চুরি করা বেথেল। শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩০ রান। বেথেল ফিরে যাওয়ায় তা আর হয়নি। ভারতের রান তাড়া করতে নেমে ৫ ওভারের মধ্যেই ২ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। ফিরে যান ফিল সল্ট (৫) ও হ্যারি ব্রুক (৭)। এরপর ফেরেন বাটলার (২৫)। ১০০ রান তোলার আগে চতুর্থ উইকেটও হারায় ইংল্যান্ড। ব্যানটন ফেরেন ১৭ রান করে। এখান থেকেই জুটি বেঁদে ইংল্যান্ডের আশা জিইয়ে রাখেন বেথেল ও জ্যাকস। শেষ ৯ ওভারে ইংল্যান্ডের লাগবে ১২৩ রান। অসম্ভব ছিল না সেই টার্গেট।বেথেল ও জ্যাকসের এই জুটি ভারতকে চোখরাঙানি দিচ্ছিল, তা থেকে স্বস্তি দিয়েছেন অক্ষর প্যাটেল, অসাধারণ ক্যাচ ধরে। ক্যাচ নিয়ে সীমানার বাইরে যাওয়ার আগে দুবের হাতে বল ছুড়ে দিয়েছেন অক্ষর। দুবে বাকি কাজটা করেছেন।এর আগে অসাধারণ এক ক্যাচ নিয়ে ব্রুককে আউট করেছিলেন অক্ষর।জ্যাকস ফেরেন ৩৫ করে। ইংল্যান্ডের জিততে শেষ ৫ ওভারে লাগত ৬৯ রান। শেষপর্যন্ত বেথেল ৮ চার ও ৭ ছক্কায় ৪৮ বলে ১০৫ করে ফেরেন। স্বস্তি ফেরে ভারতের।
এর আগে ব্যাট করে ফের ঝলক দেখান সঞ্জু স্যামসন। সেমিফাইনালে আবারও সেঞ্চুরি মিস করলেন ভারতের ওপেনার সঞ্জু। ইডেনে সুপার এইটের শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে তুলেছিলেন সেমিফাইনালে। শেষ চারের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে আবারও জাগান সেঞ্চুরির সম্ভাবনা। কিন্তু থামেন ৮৯ রানে। তার ঝড়ের পর বাকি ব্যাটারদের সম্মিলিত ব্যাটিংয়ে ৭ উইকেটে ২৫৩ রানের পাহাড় গড়ে টিম ইন্ডিয়া।
মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। ব্রিটিশ অধিনায়কের দেওয়া সুযোগ লুফে নেন যেন ফর্মে থাকা সঞ্জু স্যামসন। যদিও ওপেনিং জুটি হতাশ করে। আরও একবার ফ্লপ অভিষেক শর্মা। মাত্র ৯ রানে ফেরেন তিনি। যদিও থমকায়নি ভারত। পাওয়ার প্লেতে বোর্ডে যোগ হয় ৬৭ রান।তিনে নামা ঈশান কিষানকে নিয়ে গড়েন ৯৭ রানের জুটি। বেধড়ক পিটিয়ে এই জুটিতেই হাফসেঞ্চুরির দেখা পান স্যামসন। ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ২৬ বলেই পঞ্চাশ করেন তিনি। ঈশান ৪ চার ও দুই ছক্কায় ১৮ বলে ৩৯ করে ফেরেন। থামেননি সঞ্জু। ৪ চার ও ৭ ছক্কায় ৪১ বলে ৮৯ রান করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু বাধ সাধেন উইল জ্যাকস। ওই রানের পর তিনি আর এগোতে দেননি সঞ্জুকে। দলের ১৬০ রানে তার বিদায়ে তৃতীয় উইকেট হারায় ভারত। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে হয়নি তাঁর।স্যামসন বিদায় নিলেও তার দেখানো পথেই হাঁটেন শিবম দুবে। তাকে সঙ্গে দিতে অবশ্য ব্যর্থ হন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। একটি ছক্কায় ১১ রান করে সুইপ করতে গিয়ে স্টাম্পিং হন।১৯০ রানে ৪ উইকেট পতন হয় ভারতের।২৫ বলে ৪৩ রান করে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হতে হয় দুবেকে। ৯ বলে ২১ রান করে ফেরেন তিলক বর্মা। ইনিংসের শেষ ওভার করতে আসা উইল জ্যাকসকে হার্দিক পান্ডিয়া দুটি ছক্কা মারেন। পঞ্চম বলে রানআউট হন তিনি। এর আগে ৩টি চার ও দুই ছক্কায় খেলেন ১২ বলে ২৭ রানের ক্যামিও ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ভারত তুলে ফেলে ৭ উইকেটে ২৫৩।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed