জাতীয় টুর্নামেন্টের আয়োজন পাড়া টুর্নামেন্টের চেয়েও অধম! সন্তোষ নিয়ে অসন্তোষ আইএফএ’র

সন্তোষ নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করল বাংলা ফুটবলের সর্বো্চ্চ সংস্থা আইএফএ। সেইসঙ্গে বাংলার ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়ার দাবিও জানানো হয়। এআইএফএফকে চিঠি দিয়ে আইএফএ জানিয়ে দিয়েছে, চূড়ান্ত অব্যবস্থার শিকার হচ্ছে বাংলার ফুটবলাররা। তাতে শারীরিক ও মানসিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ ও বির্পযস্ত হতে হচ্ছে ফুটবলারদের। প্রসঙ্গত, পাঁচ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ শীর্ষে থেকে সন্তোষ ট্রফির শেষ আটে পৌঁছেছে অপরাজেয় বাংলা। গ্রুপে জয়ের হ্যাটট্রিকের পর শেষ দু’ম্যাচ ড্র করে বাংলা। শেষ ম্যাচের শেষেও বাংলার কোচ সঞ্জয় সেন বলেন, ‘চার ঘণ্টার জার্নি করে এখানে খেলতে আসতে হয়েছে। তবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল গ্রুপ টপার হওয়া, সেটা আমরা করতে পেরেছি।’


অসমে সন্তোষ ট্রফিতে ৮০ কিলোমিটার যাত্রা করে খেলতে যেতে হচ্ছে দলগুলোকে। তাতে অন্তত আড়াই ঘণ্টার ধকল সহ্য করতে হচ্ছে ফুটবলারদের। তারওপর আবার গ্রুপপর্ব খেলতে হয়েছে একদিনের ব্যবধানে। ভোগান্তির চূড়ান্ত হয় বাংলার শেষ ম্যাচে। রাজনৈতিক সমাবেশ থাকায় বাস ছেড়েছিল সকাল ৯ টায়, আর পৌঁছেছে দুপুর দেড়টায়। ম্যাচ শুরু হয় তার একঘণ্টা পরই। ফেরার সময় হয় আরও হয়রানি।সন্ধে ৫.২৫ মিনিটে ঢেকুয়াখানা স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে শনিবার ভোর ৫টায় টিম হোটেলে পৌঁছয় বাংলা দল। সে’সময় পর্যাপ্ত জল বা খাবার কিছুই পায়নি ফুটবলাররা। ক্লান্তি কাটিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে লড়াই করার জন্য সময়ও হাতে নেই। তাই চূড়ান্ত অব্যবস্থার কথা তুলে ধরে ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়ার আর্জি জানায় আইএফএ।
আইএফএ চিঠিতে লিখেছে, ‘সন্তোষ ট্রফি যেভাবে সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন, অসংবেদনশীল এবং নিম্নমানে আয়োজন করা হয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। খেলোয়াড়দের তীব্র শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার হতে হচ্ছে। একেবারে অমানবিক পরিস্থিতি। এই ধরনের হেনস্তা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্থানীয় টুর্নামেন্টগুলো এর চেয়ে বেশি পেশাদারিত্বের সঙ্গে আয়োজন করা হয়। সন্তোষ ট্রফির মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় টুর্নামেন্টে এমন পরিস্থিতি লজ্জাজনক। নিম্নমানের মাঠ, কম খরচার ব্যবস্থাপনায় এআইএফএফের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। যাঁরা এই খেলার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের জন্য এটা চরম অপমানের। আমরা চাই, এআইএফএফ দায় বহন করে দ্রুত পদক্ষেপ নিক’।
