জুবিন গর্গের মৃত্যুতে সিঙ্গাপুর তদন্তে নতুন মোড়, সামনে এল চূড়ান্ত রিপোর্টের চাঞ্চল্যকর তথ্য, কী রায় আদালতের?
সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গর্গেররহস্যমৃত্যু ঘিরে দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটাল সিঙ্গাপুর আদালত। বুধবার, সিঙ্গাপুর পুলিশ কোস্ট গার্ডের চূড়ান্ত রিপোর্টকে মান্যতা দিয়ে আদালতের তরফে জানানো হয়, গায়কের মৃত্যুর নেপথ্যে কোনও ষড়যন্ত্র বা ‘ফাউল প্লে’-এর প্রমাণ মেলেনি। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের লাজারাস দ্বীপ সংলগ্ন সমুদ্রে স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় ডুবে মৃত্যু হয় ৫২ বছর বয়সী এই শিল্পীর। প্রাথমিক তদন্তে শ্বাসকষ্টের কথা বলা হলেও, চূড়ান্ত রিপোর্টে উঠে এসেছে আরও গুরুতর তথ্য। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, দুর্ঘটনার সময় জুবিন গর্গ মারাত্মকভাবে মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। ‘টক্সিকোলজি রিপোর্ট’ অনুযায়ী, তাঁর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল ৩৩৩ মিলিগ্রাম প্রতি ১০০ মিলিলিটার— যা সিঙ্গাপুরের নির্ধারিত আইনি সীমার বহু গুণ বেশি। এই অবস্থায় তাঁর শারীরিক ভারসাম্যও বিচারক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রিপোর্ট কী বলছে?
• দুর্ঘটনার সময় জুবিন গর্গ অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।
• রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল আইনি সীমার কয়েক গুণ বেশি।
• মদ্যপানের কারণে তাঁর শারীরিক ভারসাম্য ও বিচারক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
• প্রথমবার লাইফ জ্যাকেট পরলেও, দ্বিতীয়বার তিনি তা পরতে অস্বীকার করেন।
• সহযাত্রীদের অনুরোধ উপেক্ষা করে তিনি নিরাপত্তা বিধি মানেননি।
• মাঝসমুদ্রে সাঁতার কাটার সময় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অচৈতন্য হয়ে পড়েন।
• সিসিটিভি ফুটেজ বা প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে কোনও ধাক্কা দেওয়া বা ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মেলেনি।
• উদ্ধারকারীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে জানানো হয়েছে।
• গায়কের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ ও এপিলেপ্সির সমস্যা ছিল।
• খিঁচুনির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি, যদিও তা নিশ্চিত নয়।
ঘটনার দিন বন্ধুদের সঙ্গে প্রমোদতরী করে সমুদ্রে গিয়েছিলেন গায়ক। প্রথমবার লাইফ জ্যাকেট পরে জলে নামলেও, দ্বিতীয়বার তিনি তা পরতে অস্বীকার করেন। ক্যাপ্টেন ও সহযাত্রীদের একাধিক অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। ফেরার পথে মাঝসমুদ্রে আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং অচৈতন্য হয়ে পড়েন।মৃত্যুকে ঘিরে অসম-সহ উত্তর-পূর্ব ভারত তীব্র প্রতিক্রিয়ায় উত্তাল হয়ে ওঠে। গায়কের ঘনিষ্ঠ মহল এবং পরিবারের তরফে অভিযোগ ওঠে, তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে জলে ঠেলে ফেলে দেওয়া হতে পারে। এমনকি উদ্ধারকারীদের বিরুদ্ধেও অসঙ্গতির অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তবে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা জানিয়ে দেন, কাউকে ধাক্কা দিতে দেখা যায়নি এবং উদ্ধার প্রক্রিয়াতেও কোনও ঘাটতি হয়নি।সব মিলিয়ে, আদালতের পর্যবেক্ষণ— অতিরিক্ত মদ্যপান, নিরাপত্তা বিধি অমান্য এবং শারীরিক জটিলতার সম্মিলিত প্রভাবেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। সরকারি রিপোর্টে ‘ষড়যন্ত্র’-এর প্রমাণ না মিললেও, গায়কের পরিবার ও অনুরাগীদের একাংশ এখনও এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন, ফলে ক্ষোভের আবহ পুরোপুরি কাটেনি।
