কারাবন্দি ইমরান খান গুরুতর অসুস্থ! পাক সরকারকে চিঠিতে আর্জি গাভাসকর-কপিলের, মুখ খুললেন সৌরভও

0

সবাই সমান নয়। সব কিছু সমান নয়। ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে এশিয়া কাপ থেকে বিশ্বকাপে দেখা গেছে পাকিস্তানের অধিনায়কের সঙ্গে হাত না মেলাতে। এমনকি পুরস্কারও নেননি পাক দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাত থেকে। সেই দেশেই বন্দি হয়ে রয়েছেন পাক কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খান। রাজনৈতিক নানা কারণ থাকতেই পারে, তবু বিশ্ব ক্রিকেটে একটা আলাদা নাম ইমরান। তার হয়েই এ বার পাক সরকারের কাছে আর্জি জানালেন বিশ্ব ক্রিকেটের বাকি কিংবদন্তিরা। এরমধ্যে রয়েছেন ভারতের সুনীল গাভাসকর, কপিলদেব নিখাঞ্জও।


দীর্ঘদিন পাকিস্তানের কারাগারের অন্ধকার ঘুপচিতে বন্দি পাকিস্তানের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ঠিকঠাক খবরও পাওয়া যায় না তাঁর কী অবস্থায় দিন কাটছে। সূত্রের খবর, দৃষ্টিশক্তি হারাতে বসেছেন তিনি। শারীরিক অবস্থাও ভাল নয়। তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ দাবি করেছে, ইমরানের জীবনের ঝুঁকি রয়েছে এবং জেলের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটাচ্ছে।


অনেকদিন চুপ থেকেছে বিশ্ব ক্রিকেট। কিন্তু সব সহ্যের সীমা যেন পেরিয়ে যাচ্ছে। এরপর জেগে উঠলে হয়তো আর বাঁচিয়ে ফেরানোই যাবে না কিংবদন্তি ক্রিকেটারকে। ইমরানের জীবন ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় এবার সরব হয়েছেন পাঁচটি দেশের ১৪ জন প্রাক্তন অধিনায়ক। পাক সরকারকে দেওয়া একটি যৌথ চিঠিতে সই করেছেন ভারতীয় কিংবদন্তি সুনীল গাভাসকর ও কপিল দেব। এছাড়াও রয়েছেন মাইকেল আথারটন, অ্যালান বর্ডার, মাইকেল ব্রিয়ারলি, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, ডেভিড গাওয়ার, কিম হিউজ, নাসের হুসেন, ক্লাইভ লয়েড, স্টিভ ওয়া এবং জন রাইট। চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন, ‘ইমরান খান ক্রিকেট দুনিয়ার একজন কিংবদন্তি। তাঁর বিরুদ্ধে আমরা খেলেছি এবং অনেকে তাঁকে আদর্শ হিসেবে মেনেছি। রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে তিনি একজন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলার খবরে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।আমরা চাই তাঁকে যথাযথ চিকিৎসা এবং পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হোক।’
ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও ইমরানের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। তিনি এক অনুষ্ঠানে বলেন, ইমরান খান কিংবদন্তি ক্রিকেটার। রাজনীতি, রাজনীতির জায়গায় থাকা উচিত তবে ইমরান খানের অন্য এক পরিচয়ও আছে। তিনিই বিশ্ব ক্রিকেটে পাকিস্তানকে চিনিয়েছিলেন। সেই সম্মান তাঁর পাওয়া উচিত। আশা করি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।’
ইমরান খান পাকিস্তানের হয়ে ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ জয় করে। সেবারই প্রথমবারের মত কোনো আইসিসি ইভেন্টে জেতে পাকিস্তান। যদিও, সেটাই ইমরান খানের একমাত্র পরিচয় নয়। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার পরবর্তীতে রাজনীতির ময়দানে পা রাখেন। কিছুদিন আগেও তিনি ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। সেটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় তাঁর জীবনে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed