ফিরে দেখা ২০২৫। তারা ঝলমলে বিনোদন জগতে যাদের জীবন প্রদীপ নিভল
বিনোদন জগত মানেই তারা ঝলমলে ব্যাপার স্যাপার। তবে সেইসঙ্গে শোকেরও। একের পর এক প্রদীপ নিভেছে যেন এই বছরেই। শোকস্তব্ধ হয়েছে যেমন বলিউড, তেমন টলিউডও। দেখে নিন, ২০২৫ সালে কাদের চিরকালের মতো হারালেন বিনোদনপ্রেমীরা।
ধর্মেন্দ্র: বলিউডের ‘হি-ম্যান’ বলেই বিখ্যাত ছিলেন ধর্মেন্দ্র। ছুঁতে পারলেন ৯০। ২৪ নভেম্বর নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘ ৬ দশক ধরে একের পর এক হিট ছবি। ‘শোলে’, ‘চুপকে চুপকে’, ‘সত্যমেব জয়তে’ র মতো ছবিতে অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে হিন্দি সিনেমার এক যুগের অবসান ঘটে।

সতীশ শাহ: বলিউডের বিখ্যাত কৌতুকাভিনেতা ‘সারাভাই ভার্সেস সারাভাই’, ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ এবং ‘ম্যায় হুঁ না’-খ্যাত সতীশ শাহ প্রয়াত হয়েছেন এ’বছরই।২৫ অক্টোবর ৭৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।একাধিক ছবি এবং হিন্দি ধারাবাহিকে অভিনয়ের জন্য খ্যাত। তাঁর অভিনয় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আসরানি: আর এক কিংবদন্তি অভিনেতা আসরানি দীপাবলির আলো ম্লান করে প্রয়াত হন গত ২০ অক্টোবর। বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ‘শোলে’ ‘খাট্টা মিঠা’, ‘আওয়ারা পাগল দিওয়ানা’ ‘ভুল ভুলাইয়া’-এর মতো ছবি দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন। ‘শোলে’ ছবিতে অমিতাভ বচ্চন, ধর্মেন্দ্র বা আমজাদ খানের পাশাপাশি তাঁর অভিনীত ‘জেলর’ চরিত্রটি চিরস্মরণীয়।

সুলক্ষণা পণ্ডিত: কণ্ঠে ছিল মাদকতা আর সুর, তেমনি রূপসী ছিলেন সুলক্ষণা। প্রবীণ অভিনেত্রী ও গায়িকা সুলক্ষণা পণ্ডিত ৬ নভেম্বর ৭১ বছর বয়সে প্রয়াত হন। তার কণ্ঠে বহু জনপ্রিয় গান আজও শ্রোতাদের আবেগে ভাসিয়ে দেয়। তিনি ‘খানদান’, ‘উলঝান’, ‘ধরম কাও’ এবং ‘আপনপান’এর মতো চলচ্চিত্রের জন্য পরিচিত ছিলেন। কেরিয়ারে সাফল্য এলেও ব্যক্তিগত জীবনে সুখ পাননি সুলক্ষণা। শেষজীবনটাও কেটেছে একাকীত্ব আর অন্ধকারে।

পঙ্কজ ধীর: ‘মহাভারত’, ‘চন্দ্রাকান্তা’ খ্যাত তারকা পঙ্কজ ধীর প্রয়াত হন ১৫ অক্টোবর।বিআর চোপড়ার আইকনিক ধারাবাহিক মহাভারত-এ কর্ণের চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতির শিখরে পৌঁছেছিলেন এই অভিনেতা।৬৮ বছর বয়সে থামে লড়াই।

জুবিন গর্গ: অসমের জনপ্রিয় গায়ক ও সঙ্গীত পরিচালক জুবিন গর্গের আকস্মিক মৃত্যু সবাইকে হতবাক করেছে। তাঁর এই অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না বলি-টলি মহল। অসমসহ গোটা দেশ তাঁকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। জুবিনের বয়স হয়েছিল ৫২ বছর। তাঁর ‘ইয়া আলি’ গান জাতীয় স্তরে জনপ্রিয়তায় শীর্ষে পৌঁছেছিল। সিঙ্গাপুরে সাঁতার কাটার সময় দুর্ঘটনায় প্রয়াত হন ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫।

শেফালি জারিওয়ালা: অভিনেত্রী শেফালি জারিওয়ালা মাত্র ৪২ বছর বয়সে ২৭ জুন রাতে আচমকা প্রয়াত হন।‘মুঝসে শাদি কারোগি’তে অভিনয় করেছিলেন।‘কাঁটা লাগা’ গানের মাধ্যমে রাতারাতি সেলিব্রিটি হয়ে ওঠেন।

পীযূষ পান্ডে: ভারতীয় বিজ্ঞাপনে উত্তরাধিকার রেখে যাওয়া পীযূষ পান্ডে দীর্ঘ অসুস্থতার পর ২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।তাঁর প্রয়াণে ভারতের বিজ্ঞাপন জগতের এক যুগের অবসান হয়েছে।

মনোজ কুমার: মনোজ কুমার একজন জনপ্রিয় প্রবীণ অভিনেতা, যিনি ১৯৫৭ সালে তাঁর যাত্রা শুরু করেছিলেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজগুলির মধ্যে রয়েছে ক্রান্তি, রোটি কাপড়া অউর মাকান এবং অন্যান্য। ৪ এপ্রিল প্রয়াত হন প্রবীণ অভিনেতা।

অরুণ রায়: বছর শুরুতেই প্রয়াত হন ‘বাঘাযতীন’ ছবির পরিচালক অরুণ রায়।ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন পরিচালক। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হয় টলিউড। ২ জানুয়ারি প্রয়াত হন বাংলার এই পরিচালক।

চন্দ্রমৌলি বিশ্বাস: প্রয়াত ফসিলসের প্রাক্তন বেস গিটারিস্ট চন্দ্রমৌলি বিশ্বাস।১২ জানুয়ারি মধ্য কলকাতার ইন্ডিয়ান মিরর স্ট্রিটে তাঁর ভাড়া বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয় ঝুলন্ত দেহ।প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন চন্দ্রমৌলি। গত কয়েক বছর ধরেই হাতে তেমন কাজ ছিল না তাঁর।

জয় বন্দ্যোপাধ্যায়: প্রয়াত বাংলা ছবিরে জনপ্রিয় অভিনেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৫ আগস্ট কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেতা। বেশ কয়েকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন।বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।

কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়: প্রয়াত প্রবীণ অভিনেতা কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন উত্তম কুমারের এই সহঅভিনেতা। অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়েও নিয়েছিলেন সম্প্রতি।৮ ডিসেম্বর প্রয়াত হন প্রবীণ এই অভিনেতা। প্রয়াত অভিনেতার কেরিয়ারের উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর মধ্যে একটি ‘ধন্যি মেয়ে’।

শ্রাবণী বণিক: বছর শেষে টলিউডে শোকের ছায়া। মারণ রোগ ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করেও জীবনের কাছে হেরে গেলেন ছোটপর্দার অভিনেত্রী শ্রাবণী বণিক। ২৯ ডিসেম্বর রাজারহাটের একটি ক্যানসার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেত্রী। মঞ্চ, নাটক, ছোটপর্দায়, বড়পর্দায় সাবলীল তাঁর উপস্থিতি আর দেখা যাবে না। বিশেষ করে টেলিভিশনের দর্শকের কাছে শ্রাবণী বণিক ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত মুখ।

এঁরা ছাড়াও একাধিক ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে বিনোদন দুনিয়া। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য সুরকার অধীর বাগচী, ওড়িয়া অভিনেতা উত্তম মোহান্তি, ধীরজ কুমার, অভিনেতা অচ্যুত পোতদার, রামায়ণ খ্যাত পরিচালক রামানন্দ সাগরের পুত্র প্রেম সাগর, ডায়ান কিটন, কামিনী কৌশল, ভারিন্দর সিং ঝুমান, মুকুল দেব, ঋষভ ট্যান্ডন, মালয়ালম অভিনেতা শ্রীনিবাসন।
