ভারত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে যুবদের বিশ্বজয়ের হেক্সা মিশন সম্পূর্ণ করালেন বৈভব
মহম্মদ কাইফ, বিরাট কোহলি, উন্মুখ চাঁদ, পৃথ্বী শ, যশ ধূলের পর আয়ুষ মাত্রের বিশ্বজয়। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে হেক্সা মিশন সম্পূর্ণ করে ফেলল ভারতের যুবরা। বৈভব সূর্যবংশীর ঝড় সামলাতে পারেনি ইংল্যান্ড। ১০০ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয় শিকার ব্রিটিশদের।

সদ্যই টি২০ বিশ্বকাপ ধরে রাখার মিশনে নামবে টিম ইন্ডিয়া। দাদাদের তাতিয়ে দিতেই অসাধারণ জয় ও বিশ্বকাপ উপহার দিল যেন ভাইয়েরা। প্রথমে ব্যাট করে ভারত ৯ উইকেট হারিয়ে তোলে ৪১১ রানের রেকর্ড রান। তা তাড়া করতে নেমে ৪০.২ ওভারেই ৩১১ রান তুলে খেলখতম হয় ইংল্যান্ডের।
ভারতের ৪১১ রান, জাতীয় দল ও ছেলে–মেয়ে নির্বিশেষে আইসিসি বিশ্বকাপ ফাইনাল ইতিহাসে সর্বোচ্চ। যা টপকাতে গেলে সেই বিশ্বরেকর্ড ভেঙেই বিশ্বজয় করতে হত ইংল্যান্ডকে। তার ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেনি। এই নিয়ে ষষ্ঠবার ভারতের যুবদের বিশ্বজয় হল।

ফাইনালের মঞ্চে নায়কের নাম বৈভব সূর্যবংশী। তিনি টুর্নামেন্টেরও নায়ক। ১৪ বছর বয়সি বিহারের এই ওপেনার ৮০ বলে খেলেছেন ১৭৫ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস। তাতে ১৫ চার ও ১৫ ছক্কা। ভারতের তাতে রানের পাহাড় গড়তে কোনও অসুবিধেই হয়নি। তবে ভারতের শুরুটা ছিল নড়বড়ে। দলের ২০ রানে আউট হন ওপেনার অ্যারন জর্জ (৯)।এরপর অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রের সঙ্গে বৈভব জুটি গড়েন ১৪২ রানের। দলের ১৬২ রানে আয়ুষ ৫৩ রান করে ফিরলে ভাঙে জুটি।অধিনায়কের বিদায়ের পরপরই ৫৫ বলে সেঞ্চুরি আদায় করে নেন সূর্যবংশী। ইংল্যান্ডের বোলারদের পিটিয়ে পার করেন নিজের ব্যক্তিগত দেড়শো রানও।দলের ২৫১ রানে বৈভব আউট হওয়ার আগে খেলেন ৮০ বলে ১৭৫ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস ১৫ চার ও ১৫ ছক্কায়।বৈভবের তাণ্ডবে ১৩.২ ওভারে দলের ১০০ রান পূর্ণ হয়। এরপর মাত্র ২১.৪ ওভারে দুশো রান ছাড়িয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং করে ভারতের যুবরা দাঁড় করায় ৪১১ রানের বিশাল স্কোর।বাকি ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন অভিজ্ঞান কুণ্ডু। ২০ বলে ৩৭ রান করে অপরাজিত ছিলেন কনিষ্ক চৌহান। ৩২ ও ৩০ রান আসে ত্রিবেদি ও মালহোত্রার ব্যাট থেকে।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩১১ রান পর্যন্ত করতে পেরেছে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দল। বিশাল লক্ষ্যমাত্রার সামনে বিফলেই গেছে ক্যালেব ফ্যালকনারের ৬৭ বলে ১১৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস।৬৬ ও ৪৫ মাঝারি মানের ইনিংস খেলেন বেন ডওকিন্স ও বেন মায়েস। ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেছেন অ্যাম্ব্রিশ। দুটি করে পেয়েছেন দিপেশ ও কনিষ্ক। সমান একটি করে খিলান ও আয়ুষ। ম্যাচের সেরা ও টুর্নামেন্ট সেরা হন বৈভব সূর্যবংশী।
