অস্ট্রেলিয়া থেকে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ইরানে ফিরল মহিলা ফুটবলাররা! রাজকীয় সংবর্ধনা মেয়েদের
রাজনীতি ও খেলার টানাপোড়েন পেরিয়ে অবশেষে দেশে ফিরলেন ইরান মহিলা ফুটবল দলের সদস্যরা। বুধবার তুরস্ক সীমান্ত হয়ে ইরানে প্রবেশ করার সময় হাজারো মানুষের ভালোবাসা ও সংবর্ধনায় ভেসে যান তাঁরা। ফুল, করতালি ও উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে সীমান্ত এলাকা, যেন এক আবেগঘন প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ।

অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপে অংশ নিতে গিয়েই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসেন এই ইরানি ফুটবলাররা। জাতীয় সংগীতের সময় নীরব থাকা নিয়ে দেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে, এমনকি তাঁদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেও কটাক্ষ করা হয়। সেই সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প-সহ বিভিন্ন মহল থেকে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতির মধ্যেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়া, ওমান ও ইস্তাম্বুল হয়ে স্থলপথে গুরবুলাক-বাজারগান সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরেন অধিকাংশ ফুটবলার। যদিও দলের দুই সদস্য অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে গিয়ে ব্রিসবেন রোয়ার ক্লাবে যোগ দিয়েছেন। এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে বিতর্কও কম নয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, খেলোয়াড়দের পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাঁদের দেশে ফিরতে বাধ্য করা হয়েছে। তবে সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে মেহদী তাজ, ইরান ফুটবল ফেডারেশন-এর সভাপতি, উল্টো অভিযোগ করেন যে বিদেশে তাঁদের আটকে রাখার চেষ্টা হয়েছিল। দেশে ফেরার পর ফুটবলারদের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। তিনি বলেন, ‘এই মেয়েরা দেশের গর্ব, তারা ভয়কে জয় করে ফিরেছে’। ইতিমধ্যেই সমাজ মাধ্যমে সীমান্তের সংবর্ধনার ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। যদিও এশিয়ান কাপে পারফরম্যান্স খুব একটা ভালো ছিল না—গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় দলকে—তবুও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁদের এই প্রত্যাবর্তনকে ইরানের জন্য বড় মানসিক জয় হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক মহল। রাজধানী তেহরানে তাঁদের জন্য আরও বড় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে, সব নিয়ে এই ঘটনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
