বঙ্গে গেরুয়া ঝড়, আবেগ ও ক্ষোভের মাঝে নতুন আশার সুর জিৎ, চান্দ্রেয়ীর গলায়
৪ মে,সোমবার বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিকে মুখিয়ে ছিল গোটা রাজ্য।১৫ বছরের শাসনের পর তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গের কুর্সিতে বসল বিজেপি।ফল প্রকাশের পর থেকেই শহরজুড়ে বইছে গেরুয়া আবিরের ঝড়। তবে প্রভাব পড়েছে টলিপাড়ায়।গত দেড় দশক ধরে টলিপাড়ার বহু তারকা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে তারকা বলেই যে তারা প্রার্থী হিসেবেও সমান গ্রহণযোগ্যতা পাবে ,তা অনেকক্ষেত্রেই ভুল প্রমাণিত হয়েছে।শাসকদলের পতনের পর টলিপাড়ার তারকাদের ক্ষেত্রেও সেই পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের জন্য ক্ষমতায় এল বিজেপি।তবে এই পরিবর্তনকে ঘিরে নানা প্রতিক্রিয়া উঠে আসছে টলিপাড়ার তারকাদের থেকে।এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী চান্দ্রেয়ী ঘোষ লেখেন,”এটা একটা নতুন ভোর। কিন্তু মনটা ভারী। পরিবর্তনের জন্য নয়,কারণ পরিবর্তনই একমাত্র চিরস্থায়ী সত্য, এবং সেটাই হওয়া উচিত।একসময় যাকে আমরা ভরসা করে আমাদের জীবনের দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলাম, তাকে ঘিরে একটা অনুভূতি থেকেই যায়। সেই জায়গাটাই কষ্ট দেয়।”

তাঁর লেখায় তিনি স্পষ্ট জানান ,পরিবর্তন তো জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম, সেটাই হওয়া উচিত।তবুও মানুষের মনে আবেগ কাজ করে। অনেক হতাশা আর কষ্ট হয়তো মানুষকে বদলের দিকে ঠেলে দেয়, কিন্তু যাকে একসময় বিশ্বাস করে নিজের ভবিষ্যৎ তুলে দিয়েছিলাম, তার প্রতি একটা টান থেকেই যায়। সেই পুরনো অনুভূতিটাই মাঝে মাঝে ব্যথা দেয়।তিনি ইঙ্গিত করেন,এই পরিবর্তন যেন সুষ্ঠ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে এবং আগামী দিনে যেন উন্নতির আলো দেখায়।

অন্যদিকে লেখিকা শতরূপা সান্যাল তাঁর কবিতার মধ্যে বিদায়ী সরকারের প্রতি ক্ষোভ ও বঞ্চনার সুর তুলে ধরেছেন।তিনি তাঁর ‘কিছুই ভুলিনি’ কবিতায় বাংলার উপর হওয়া অত্যাচার,লাঞ্ছনার কথা তুলে ধরেছেন।তিনি লেখেন,’পাপের ভারে তো ডুবছে জাহাজ ,এত পাপ হল জমা!এরপরও তুমি কি করে ভাবলে,তোমাকে করব ক্ষমা?” তাঁর এই লেখায় সমাজের একাংশের জমে থাকা ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তবে এই আবহে ব্যতিক্রমী অবস্থান নিয়েছেন টলিউড সুপারস্টার জিৎ। তিনি কখনও প্রকাশ্যে কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষ নেননি।কিন্তু এবার তিনি বিজেপির জয়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেন,”বাংলার জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।এই জয়ের জন্য বিজেপিকে শুভেচ্ছা।আশা করি এই পরিবর্তন রাজ্যের উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিয়ে আসবে।”
