মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব! তৈরি করা যাচ্ছে না ক্রিকেট বল, বেজায় চাপে পড়েছে ইসিবি
মধ্যপ্রাচ্যে চলতি যুদ্ধের প্রভাবে টি২০ বিশ্বকাপ শেষে দেশে ফিরতেই চাপে পড়ে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড দল। আসন্ন আইপিএলেও ঠিক সময়ে সমস্ত বিদেশির ভারতে আসা নিয়ে আশঙ্কা এখনও আছে। এরমধ্যেই উঠে এল বল সঙ্কটের খবর। আসন্ন মরশুম শুরুর আগেই গুরুতর বল সঙ্কটে পড়েছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। আগামী ৩ এপ্রিল থেকে মরশুম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও যুদ্ধের প্রভাবে ডিউক বলের ঘাটতি বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইংল্যান্ডের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী ডিউক ক্রিকেট বল মূলত তৈরি করে ব্রিটিশ ক্রিকেট বলস লিমিটেড। এই বল তৈরির প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও বহু ধাপের। স্কটল্যান্ডের বিশেষ প্রজাতির গরুর চামড়া ইংল্যান্ডে প্রক্রিয়াজাত করার পর তা সেলাইয়ের জন্য দক্ষিণ এশিয়ায় পাঠানো হয়। এরপর প্রস্তুত বল আবার লন্ডনে ফেরত আসে- আর এই পুরো পরিবহন ব্যবস্থার প্রধান রুটই মধ্যপ্রাচ্য।
কিন্তু চলতি যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ এখন ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত। ফলে এশিয়ার কারখানায় প্রস্তুত থাকা বল সময়মতো ইংল্যান্ডে পৌঁছাতে পারছে না। এর জেরে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। এই সঙ্কট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংস্থার কর্ণধার দিলীপ জাজোদিয়া।

তিনি জানান, প্রতি মরশুমে যেখানে ৪-৫ হাজার বলের প্রয়োজন হয়, সেখানে এবার ক্লাবগুলিকে চাহিদার মাত্র ৫০ শতাংশ বল সরবরাহ করতে পারছেন তারা। শুধু সরবরাহই নয়, যুদ্ধের প্রভাবে আকাশচুম্বী হয়েছে পরিবহন খরচও। আগে যেখানে প্রতি কেজি পণ্য পরিবহনে খরচ ছিল প্রায় ৫ ডলার, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ ডলারে।এই পরিস্থিতিতে বিকল্প পথের সন্ধান শুরু হয়েছে। পাকিস্তান হয়ে শ্রীলঙ্কা রুট ব্যবহার বা বিশেষ কার্গো ফ্লাইট চালুর মতো বিকল্প ভাবা হচ্ছে। তবে এতে খরচ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা। সব মিলিয়ে, মরশুম শুরুর আগেই বল সঙ্কটে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইংল্যান্ড ক্রিকেটের সামনে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আসন্ন কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
