গেরুয়া আবির,’জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতে ‘ইমপা’-য় উত্তেজনা,পিয়া সেনগুপ্তের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ প্রযোজকদের
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতার বড় পরিবর্তনের পর তার প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ ভেঙে যাওয়ার পর সিনেমা জগতের সংগঠনগুলির ভিতরেও বইছে বদলের হাওয়া। বিশেষ করে প্রযোজকদের অন্যতম সংগঠন ‘ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (ইমপা)-কে ঘিরে উত্তেজনা চরমে উঠেছে।খবর,নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরদিনই ‘ইমপা’-র অফিসে হাজির হন একদল প্রযোজক ও পরিবেশক। সেখানে তাঁরা গেরুয়া আবির খেলেন এবং গঙ্গাজল ছিটিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’-এর আয়োজন করেন বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, অফিসে ঢোকার আগে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিও শোনা যায়। এই ঘটনাকে ঘিরে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে ছড়িয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।
বিক্ষোভে সামিল প্রযোজকদের মূল দাবি, ইমপা-র বর্তমান সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তকে পদত্যাগ করতে হবে। তাঁদের অভিযোগ, এতদিন ‘ইমপা’-র সঙ্গে ফেডারেশনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রযোজকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে সমস্যা হয়েছে। বিশেষ করে ছোট প্রযোজকেরা নানা নিয়মের চাপে পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।পিয়া সেনগুপ্ত জানান, পীযূষ সাহা, কৃষ্ণা দাগা, রতন সাহা, শতদীপ সাহা-সহ একাধিক প্রযোজক তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন। তিনি আরও বলেন, নিজের অফিসেই তিনি এখন নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন মোড় নেয় বিতর্ক।প্রযোজক মিলন ভৌমিকের নেতৃত্বে কয়েকজন প্রযোজক বৌবাজার থানায় প্রিয়া সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।তাঁদের বক্তব্য,বর্তমান সভাপতির উপর তাঁদের কোনও প্রকার আস্থা নেই। তাই ইমপা সিল করে দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে অভিযোগপত্রে।অন্যদিকে,সংস্থার তরফ থেকেও পাল্টা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।পিয়া সেনগুপ্ত বলেন,”এটা গণতান্ত্রিক দেশ। সবার মত প্রকাশের অধিকার আছে। যাঁরা এই পদক্ষেপ করেছেন তাঁরা তা করতেই পারেন।”
উল্লেখ্য,ঘটনার পেছনে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে বলে মনে করা হয়েছে।অভিযোগ,ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী শুটিংয়ের সময় নির্দিষ্ট সংখ্যক টেকনিশিয়ান নিতে বাধ্য করা হত। এতে প্রযোজনার খরচ বেড়ে যেত এবং অনেক ক্ষেত্রে নিজের পছন্দমতো কর্মী নিয়োগ করাও সম্ভব হত না। ফলে স্বাধীনভাবে ছবি তৈরির ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হচ্ছিল।প্রযোজক প্রবীর ভৌমিক জানান , “ইন্ডাস্ট্রিতে এতদিন পার্টির রাজত্ব ছিল।” তিনি দাবি করেন, অনেক প্রযোজককেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থেকে বাদ রাখা হত এবং কিছু ক্ষেত্রে ছবির মুক্তির জন্য অর্থ দাবির অভিযোগও ওঠে।
অন্যদিকে, পরিবেশক শতদীপ সাহার বক্তব্য, ‘ইমপা’-কে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করা জরুরি। তিনি দ্রুত সমস্ত সদস্যকে নিয়ে বৈঠকের দাবি জানিয়েছেন এবং সংগঠনের বিভিন্ন কমিটির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।’ইমপা’-র চেয়ারম্যান ঋতব্রত ভট্টাচার্যও স্বীকার করেছেন, কিছু নিয়মের কারণে প্রযোজকদের অতিরিক্ত চাপ নিতে হয়েছে। তাঁর মতে, নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেকেই একটি ‘সিন্ডিকেটমুক্ত’ এবং স্বচ্ছ পরিবেশে কাজ করতে চান, যেখানে নিয়ম মেনে স্বাধীনভাবে কাজ করা যাবে।
যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ইমপার সভাপতি পিয়া বলেন,”ইমপা কোনও রাজনৈতিক সংগঠন নয়। ওঁরা কালকে গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধিকরণ করেছেন। গেরুয়া আবির নিয়ে এসেছেন।এখানে তৃণমূল-বিজেপি হওয়ার কথা নয়। এখানে মিটিং ডাকতে গেলেও ১৪ দিন সময় দিতে হয়। যখন যে ক্ষমতায় আসবে, তখন প্রয়োজনে তাদের সাহায্য চাইতে হবে।স্বরূপ বিশ্বাস ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে মিটিংয়ে আসেন। আমরা কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষে নই। বাবুল সুপ্রিয় যখন বিজেপির মন্ত্রী ছিলেন তখনও তিনি ইমপার সদস্য ছিলেন। বনিকে ছবিতে নিতে বলেছি, প্রমাণ দিক। ওদের কাছে প্রমাণ নেই।”
