জনতার সরকার! তাই ব্রিগেডের খোলা ময়দানে রবীন্দ্রজয়ন্তীর পুণ্য লগ্নে ক্ষমতার শপথ

0



দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নির্ধারিত হল বাংলার নতুন সরকারের শপথগ্রহণের দিনক্ষণ। আগামী শনিবার, পঁচিশে বৈশাখ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীর পবিত্র দিনে, কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নিতে চলেছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার নবান্নে গিয়ে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। উপস্থিত ছিলেন সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, সর্বভারতীয় নেতা সুনীল বনসল, শশী অগ্নিহোত্রী সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা এবং স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শপথগ্রহণের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের পর শমীক ভট্টাচার্য জানান, ‘৯ মে সকাল ১০টায় ব্রিগেডে হবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান’। তিনি আরও জানান, এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। ফলে ব্রিগেডের এই অনুষ্ঠান কার্যত জাতীয় রাজনৈতিক গুরুত্ব পেতে চলেছে। এর আগে শুক্রবার বিকেল চারটেয় অনুষ্ঠিত হবে বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠক, যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে নেতা নির্বাচন করা হবে। সেই বৈঠকের পরই মুখ্যমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত হবে বলে সূত্রের খবর। যে বৈঠকে যোগ দেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
অন্যদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য জানান, সমস্ত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া মেনেই শপথগ্রহণ সম্পন্ন হবে। একইসঙ্গে ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে খোলা ময়দানে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজনকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে এই আয়োজনকে ‘জনতার সরকার’-এর প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে নতুন শাসক দল। এখন নজর ৯ মে, রবীন্দ্রজয়ন্তীর সেই সকালেই বাংলার রাজনীতিতে শুরু হতে চলেছে এক নতুন অধ্যায়।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *