বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কে? জল্পনার কেন্দ্রে শুভেন্দুর নামই! ডেপুটি কে হবেন? কীভাবে ঠিক হবে?

0


দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার দখল নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।একসময় ‘অজেয় দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত এই রাজ্যে গেরুয়া শিবিরের সাফল্য নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক। তবে সরকার গঠনের আগে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কে হচ্ছেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী এবং কীভাবেই বা তাঁকে বেছে নেওয়া হবে?
দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এই প্রক্রিয়া তদারকির জন্য কলকাতায় আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর সঙ্গে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকবেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। পরিষদীয় দলের বৈঠকে নির্বাচিত বিধায়কদের মতামত নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতেই নেতা নির্বাচন করা হতে পারে। ভোটাভুটি নয়, সর্বসম্মত সিদ্ধান্তেই মুখ্যমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত করার ইঙ্গিত মিলেছে। এরপর সেই নেতাই রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন।
মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে একাধিক নাম ঘুরপাক খাচ্ছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছেন বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়ে দ্রুতই সংগঠনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠা শুভেন্দু ২০২১ সালে নন্দীগ্রাম এবং ২০২৬ সালে ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে নিজের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও জোরদার করেছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তিনি ‘ফ্রন্টরানার’ হলেও একেবারে ‘অটোমেটিক চয়েস’ নন। বিজেপিতে তাঁর যোগদানের সময় তুলনামূলকভাবে কম, মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর। তাছাড়া, তাঁর পূর্ববর্তী তৃণমূল ঘনিষ্ঠতা এবং সঙ্ঘ পরিবারের সঙ্গে সরাসরি পুরনো সম্পর্ক না থাকাও দলের একাংশের কাছে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও সম্ভাবনার তালিকায় রয়েছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদার এবং বুদ্ধিজীবী মুখ স্বপন দাশগুপ্ত। শমীক ভট্টাচার্যকে ‘সর্বজনগ্রাহ্য’ নেতা হিসেবে দেখা হয়, যিনি নেপথ্যে থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করেছেন। অন্যদিকে, দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বেই বাংলায় বিজেপির উত্থানের ভিত তৈরি হয়েছিল বলে দলের একাংশ মনে করে। স্বপন দাশগুপ্তের মতো অভিজ্ঞ ও শিক্ষিত মুখও আলোচনায় রয়েছেন।এদিকে, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে একজন ‘বাঙালি’ মুখকেই সামনে আনা হবে। সেই সূত্রে স্মৃতি ইরানির নামও ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ডেপুটি হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে আগে রয়েছে অগ্নিমিত্রা পালের নামও। পেশায় ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা প্রায় সাত বছর আগে বিজেপিতে যোগ দেন এবং ২০২১ সালে আসানসোল থেকে প্রথমবার বিধায়ক হন। এবারের নির্বাচনে সেই সাফল্য ধরে রেখেছেন তিনি। দলের অভ্যন্তরে একটি অংশ মনে করছে, দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় আসা বিজেপি যদি ‘নতুন বার্তা’ দিতে চায়, তাহলে একজন মহিলাকে সামনে আনা হতে পারে। সেই যুক্তিতে অগ্নিমিত্রা পাল বা রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। তবে পরিষদীয় দলের বৈঠক এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই কাটবে ধোঁয়াশা। আগামী ৯ মে নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণের আগেই স্পষ্ট হয়ে যাবে বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *