মধ্যমগ্রামে দুঃসাহসিক গুলি, শুভেন্দুর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খু*ন! ঘটনায় চরম উত্তেজনা
উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে প্রকাশ্য রাস্তায় দুঃসাহসিক গুলিতে খুন হলেন শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। বুধবার রাতে দোহারিয়া এলাকায় বাইকে করে আসা দুষ্কৃতীরা তাঁর গাড়ির পথ আটকে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। বুকে, পেটে ও মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন গাড়ির চালকও, তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্যমগ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন চন্দ্রনাথ। দোহারিয়া এলাকায় পৌঁছতেই বাইকে করে আসা দুষ্কৃতীরা তাঁর গাড়িকে ঘিরে ফেলে। যে গাড়ি করে আসছিলেন চন্দ্রনাথ রথ,সেই গাড়ির সামনের গুলি লেগে কাচ ভেঙে গিয়েছে। গাড়ির সামনের সিটে বসেছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। বিজেপির দাবি তিনটি গুলি লাগে চন্দ্রনাথের বুকে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অন্তত ৫-৬ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। বাইকগুলিতে নম্বর প্লেট ছিল না বলেও জানা গিয়েছে। হামলার পরই দ্রুত এলাকা ছাড়ে দুষ্কৃতীরা।
গুরুতর জখম অবস্থায় চন্দ্রনাথ রথকে মধ্যমগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে দাবি, তাঁর বুকে গুলি লেগে হৃদপিণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। অন্যদিকে গুলিবিদ্ধ চালককে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের বাসিন্দা চন্দ্রনাথ রথ দীর্ঘদিন ধরে মধ্যমগ্রামে বসবাস করছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি ভারতীয় বায়ুসেনায় কর্মরত ছিলেন। অবসর নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারেও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। দুষ্কৃতীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন নেতারা। অন্যদিকে ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে গেছেন বিজেপির নেতারা।
