দুর্ভাগ্য! মাত্র ১ রানের জন্য মাইলফলক হাতছাড়া সুদীপের, শামির ঝড়, বাংলার সেমিফাইনাল প্রায় নিশ্চিত
ইতিহাস ছুঁতে মাত্র ১ রান দূরে ছিলেন সুদীপ ঘরামি। সে’সময়ই স্বপ্নভঙ্গ। শেখ রশিদের একটা বল সামান্য নিচু হয়ে এসে যখন ভেঙে দিল তাঁর স্টাম্প, তখন সুদীপের নিজস্ব স্কোর ২৯৯। মুহূর্তে স্বপ্নভঙ্গ। ছোঁয়া হল তিনশো রানের মাইলস্টোন। তিনি হতাশ হলেও, বাংলাকে হতাশ করেননি। সেমিফাইনালের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন মেরুদণ্ড সোজা রেখে ৫৯৬ বলের মোকাবিলা। অসাধারণ ইনিংসে ভর করেই বাংলা তোলে ৬২৯ রানের পাহাড়। যেখানে ৩১টি চার ও ৬ ছক্কায় ২৯৯ করা সুদীপকে সঙ্গে দিয়েছেন শাকির গান্ধী। তিনিও মাত্র ৫ রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন। আউট হন ৯৫ রানে। মহম্মদ শামি বল হাতে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১ উইকেট পেলেও, ব্যাট হাতে যোগ করেছেন মূল্যবান ৫৩ রান। সবনিয়ে বাংলা ডেঞ্জার জোন থেকে বেরিয়ে, আন্ধ্রা প্রদেশকে হারানোর স্বপ্ন দেখছে শেষ দিনে। কারণ, চতুর্থ দিনের শেষে আন্ধ্রা প্রদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের স্কোর ৩ উইকেট হারিয়ে ৬৪। এরমধ্যে একটি করে উইকেট শিকার করেছেন আকাশ দীপ, সূরজ সিন্ধু, শাহবাজ আহমেদ।

তৃতীয় দিনের শেষে যেখানে বাংলার লিড ছিল ১২৩ রান। চতুর্থ দিনের শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩৪ রানে। শাকির-সুদীপ জুটিতে ২২১ রানের ইনিংস খেলেন। তাতেই বাংলার ভিত আরও মজবুত হয়ে যায়। মহম্মদ শামি রঞ্জিতে একেবারে ক্যামিও ইনিংস উপহার দিলেন। মাত্র ৩০ বলে অর্ধশতরান করে অন্ধ্রপ্রদেশের বোলারদের দিশেহারা করে দেন তিনি। সাতটি চার ও তিনটি ছক্কায় সাজানো ৫৩ রানের ইনিংস তাঁর।২৯৯ রানে আউট হয়ে রঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে অনাকাঙ্খিত এক রেকর্ডও করলেন সুদীপ। প্রথম ব্যাটার হিসেবে ২৯৯ রানে রঞ্জিতে আউট হলেন। এর আগে ১৯৮৮-৮৯ মরশুমে মহারাষ্ট্রের শান্তনু সুগভেকর মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে ২৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন, কিন্তু আউট হননি কেউই। ৪১৫ বলে পূর্ণ করেন ডাবল সেঞ্চুরি,যা ছিল সুদীপের রঞ্জি কেরিয়ারের প্রথম দ্বিশতরান।বাংলার হয়ে এর আগে ত্রিশতরানের মাইলফলক ছিল দেবাং গান্ধী ও মনোজ তিওয়ারির। ১ রানের জন্য তৃতীয় ক্রিকেটার হতে ব্যর্থই হলেন সুদীপ। এখন ২৭০ রানে পিছিয়ে। জিততে হলে বাংলাকে ২৭০ রানের মধ্যে অন্ধ্রের আরও ৭ উইকেট ফেলতে হবে।আন্ধ্রা প্রদেশের জেতা প্রায় অসম্ভব। ম্যাচ ড্র হলেও বাংলাই উঠবে সেমিফাইনালে।

