ধামসা-মাদলের তালে সোনার ইতিহাস, ফুটবলে অবহেলার জবাব দিল বাংলার ছেলেরা
অবহেলা, ক্লান্তি আর অদম্য জেদের এক অনন্য কাব্য লিখল বাংলার ফুটবল দল। প্রথমবার আয়োজিত খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল গেমসে সোনার পদক জিতে ইতিহাস গড়ল তারা। শুক্রবার সকালে রায়পুরের কোটায় স্বামী বিবেকানন্দ স্টেডিয়ামে ফাইনালে আয়োজক ছত্তিশগড়কে ১-০ গোলে হারিয়ে বাংলার ছেলেরা ছিনিয়ে আনল শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন চাকু মান্ডি।

প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে, ৪৪ মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি থেকে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। মাস দুয়েক আগে সন্তোষ ট্রফিতে পেনাল্টি মিসের আক্ষেপ বয়ে বেড়ানো এই ফুটবলারের পায়ে এদিন যেন মুক্তির ছোঁয়া-একটা গোলেই মুছে গেল সব ব্যথা।
এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়, এটি এক দীর্ঘ লড়াইয়ের ফল। আট ঘণ্টা লেট ট্রেনে প্রায় ২৪ ঘণ্টার ক্লান্তিকর সফর, নেই কোনও ট্র্যাকস্যুট বা দলের নির্দিষ্ট জার্সি-এই বাস্তবতার মধ্যেই মাঠে নেমেছিল বাংলা। তবুও রঞ্জন ভট্টাচার্যের ছেলেরা প্রমাণ করল, মনোবল থাকলে বাধা তুচ্ছ।
পুরো টুর্নামেন্টে লিগ ও নকআউট-দুই পর্বেই অপরাজিত থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলা। সেমিফাইনালে গোয়াকে ৫-২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে ওঠা দলটা শেষ ম্যাচেও দেখিয়েছে আক্রমণাত্মক ফুটবল। প্রথমদিকে পেনাল্টি মিস করেও দমে যায়নি তারা, বরং আরও দৃঢ় হয়েছে। খেলা শেষে আবেগে ভেসে যান কোচ রঞ্জন ভট্টাচার্য। এই দিনটি তাঁর জন্য ব্যক্তিগতভাবেও বিশেষ-মায়ের প্রয়াণবার্ষিকীর দিনে এই সাফল্য যেন এক আবেগঘন শ্রদ্ধাঞ্জলি।তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই জয় পুরোপুরি ফুটবলারদের পরিশ্রমের ফল। পাশাপাশি আইএফএ সভাপতি অজিত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সচিব অনির্বাণ দত্তকে সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। অধিনায়ক অমিত টুডুও কৃতিত্ব দেন কোচকে, যিনি দলকে একসূত্রে বেঁধে এই সাফল্যের ভিত গড়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের প্রকল্প ‘খেলো ইন্ডিয়া’র এই মঞ্চে, দেশের ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে প্রায় ৩০০০ ক্রীড়াবিদের মধ্যে সেরার সেরা হয়ে ওঠা-এ এক অন্য উচ্চতা। সব বাধা পেরিয়ে, ধামসা-মাদলের তালে, বাংলার ছেলেরা এদিন শুধু সোনা জেতেনি-জিতে নিয়েছে সম্মান, গর্ব আর ইতিহাস।
