টেকনিশিয়ানদের জন্য স্বাস্থ্যসাথীর উদ্যোগ, প্রকাশ্যে স্বরূপকে খোঁচা দেবের, নেপথ্যে কী কারণ?
কিছুদিন আগেই টলিউড অভিনেতা ও সাংসদ দেব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে চিঠি লিখে আবেদন জানিয়েছিলেন, টেকনিশিয়ানদের জন্য স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের ব্যবস্থা করার। আর সেই আবেদনে সাড়া দিয়েই ১৪ মার্চ টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে ‘স্বাস্থ্য সাথী’ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। টেকনিশিয়ানদের জন্য আয়োজিত এই ক্যাম্পে এদিন দেখা গেল উপচে পড়া ভিড়।
ক্যাম্পে এত মানুষের সাড়া পেয়ে দেব সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি এই উদ্যোগের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চান। তাঁর কথায়, কয়েকদিন আগে তিনি বিষয়টি নিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন এবং মুখ্যমন্ত্রী তা অতি দ্রুত অনুমোদন করেন। ফলে হাজার হাজার টেকনিশিয়ান এখন এই কার্ডের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা পেতে চলেছেন। দেবের মতে, এই কার্ড তাঁদের জন্য কতটা জরুরি তা ভাষায় বোঝানো কঠিন। একইসঙ্গে তিনি জানান, এই পুরো উদ্যোগের কৃতিত্ব মূলত মুখ্যমন্ত্রীরই। কারণ তাঁর নির্দেশেই প্রশাসনের একটি টিম এসে ক্যাম্প পরিচালনা করছে। একদিনে সব কাজ শেষ না হলেও প্রয়োজনে আরও একদিন সময় লাগতে পারে বলেও জানান দেব।
স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক প্রসঙ্গেও নিজের মত প্রকাশ করেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, অনেকেই মনে করছেন এই কার্ড করালে অন্য কোনও বিমার সুবিধা পাওয়া যাবে না, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। তিনি স্পষ্ট করে জানান, স্বাস্থ্য সাথী করালেই অন্য বিমা বাতিল হয়ে যায়, এমন কোনও নিয়ম নেই। ক্যাম্পে কার্ড করাতে এলে ব্যান করা হবে টেকনিশিয়ানদের, চলে যাবে কাজ এমন অভিযোগও উঠেছিল। সেই প্রসঙ্গে দেব বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেব-এর জন্য এই বিমা করার উদ্যোগ নেননি টেকনিশিয়ানদের কথা শুনেই এই ক্যাম্প করেছেন”
ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস এই প্রকল্প নিয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগে টেকনিশিয়ানদের জন্য যে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা ছিল সেখানে নাকি তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যেত। সেই কারণেই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়ে কিছু প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরেই আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। তাঁর এই মন্তব্যের পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন দেব। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, স্বাস্থ্যসাথী একটি অ্যাওয়ার্ড উইনিং প্রকল্প, সেটা নিয়ে প্রশ্ন করা মানে মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই রাজ্যের বহু মানুষ চিকিৎসার সুবিধা পেয়েছেন। দেবের কথায়, “স্বরূপদার স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের দরকার নেই। ওনার সামর্থ্য আছে। এই উদ্যোগ ইন্ডাস্ট্রির টেকনিশিয়ানদের জন্য।”
পাশাপাশি এই দিন ইন্ডাস্ট্রির ‘থ্রেট কালচার’ এবং ‘ব্যান কালচার’ নিয়েও সরব হন তিনি। অভিনেতা ‘অনির্বাণ ভট্টাচাৰ্য’-র উদাহরণ দিয়ে দেব বলেন, “অনির্বাণ-কে ব্যান করায় কাজ হারিয়েছে বহু টেকনিশিয়ান, ও অভিনয় করলে ওর সঙ্গে কাজের সুযোগ পেতো তারাও। অনির্বাণ গান গাইছে, মঞ্চে অভিনয় করছে, কিন্তু উপার্জনের সুযোগ হারিয়েছেন টেকনিশিয়ানরাই”। তাঁর দাবি এভাবেই কাজের সংখ্যা কমছে ইন্ডাস্ট্রিতে। এদিন দেব সরব হন পরিচালক ও বিধায়ক রাজ চক্রবর্তীর ধারাবাহিকের শুটিং আটকে দেওয়ার বিষয়েও।
এদিনের ক্যাম্পে দেব-এর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। জানা গিয়েছে, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং জিৎ-এরও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল, তবে তাঁরা শহরের বাইরে থাকায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। টলিউডের বহু টেকনিশিয়ানের জন্য এই স্বাস্থ্য সাথী কার্ড বড় সহায়তা হতে চলেছে বলেই মনে করছেন দেব। কারণ এই প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসা সংক্রান্ত খরচের বড় একটি অংশের সুরাহা পাওয়া সম্ভব হবে।
