প্যালেস্তাইনের অভিযোগে ইজরায়েলের শাস্তি, বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে ইঙ্গিত ফিফার

0

আন্তর্জাতিক ফুটবলে রাজনীতির উত্তেজনার প্রভাব ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। একদিকে প্যালেস্তাইনের অভিযোগের ভিত্তিতে ইজরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে শাস্তি দিয়েছে ফিফা, অন্যদিকে চলতি যুদ্ধের আবহে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। সব মিলিয়ে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা একচোখামি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।


দীর্ঘ ১৮ মাসের আইনি লড়াইয়ের পর ফিফা ইজরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ২ কোটি টাকা) জরিমানা করেছে। প্যালেস্তাইন ফুটবল ফেডারেশনের অভিযোগ ছিল, পশ্চিম তীরের দখলকৃত অঞ্চলের ক্লাবগুলোকে নিজেদের লিগে খেলিয়ে ইজরায়েল ফিফার আইন লঙ্ঘন করছে। এছাড়া বর্ণ বৈষম্যমূলক আচরণ, ‘ফেয়ার প্লে’ নীতিভঙ্গ এবং আপত্তিকর আচরণের অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে বলে জানায় ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি। এছাড়া ইজরায়েলকে সতর্কবার্তা দিয়ে ভবিষ্যতে আচরণে পরিবর্তন আনার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট ব্যানার প্রদর্শন, শিক্ষামূলক প্রচারণা, সংস্কারমূলক পদক্ষেপ এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফিফা স্পষ্ট করেছে, ফুটবলকে শান্তি, সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই ধরে রাখতে চায় তারা।
অন্যদিকে, ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে চলতি উত্তেজনার কারণে ইরানের ম্যাচ আয়োজন এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে নির্ধারিত ম্যাচ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।এই প্রেক্ষাপটে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। সরাসরি ইরানের নাম না নিলেও তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে ‘ন্যায্য খেলা ও পারস্পরিক সম্মান’ বজায় রাখতে হবে এবং নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই টুর্নামেন্ট আয়োজনের চেষ্টা চলছে। ইরান বিশ্বকাপ বর্জন করবে কি না, তা নিয়েও দ্বিধাবিভক্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কখনও অংশগ্রহণ নিয়ে উদাসীনতা দেখিয়েছেন, আবার কখনও ইরানকে সরে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তবে ইরান ফুটবল ফেডারেশন স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে বর্জন করলেও বিশ্বকাপ বয়কট করবে না।
ইতিহাস বলছে, রাজনৈতিক কারণে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিবার্সনের নজির রয়েছে। ১৯৯২ ইউরোতে বলকান যুদ্ধের সময় যুগোস্লাভিয়াকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। একইভাবে ইউক্রেন আক্রমণের পর রাশিয়াকেও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে ফিফা একদিকে শৃঙ্খলা রক্ষা ও বৈষম্যবিরোধী অবস্থান জোরদার করছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক সংঘাতের বাইরে থেকে ফুটবলকে ঐক্য ও শান্তির মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার বার্তাই দিচ্ছে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *