ক্রিকেটের নন্দনকানন দেখল, খেলল অ্যালেন, প্রোটিয়াদের বিদায় করে ফাইনালে নিউজিল্যান্ড
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আগের পাঁচবারের দেখায় পাঁচবারই নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে নকআউট পর্বে যে প্রোটিয়ারা চোকার্স, সেটা ফের প্রমাণ হল কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে। বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৪৩ বল হাতে রেখে ৯ উইকেটে হারাল নিউজিল্যান্ড। অ্যালেনের ঝড়ে প্রোটিয়াদের হেলাফেলা করেই ফাইনালের টিকিট পেল কিউয়িরা।
১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ইডেনে প্রোটিয়া বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালালেন দুই কিউয়ি ওপেনার টিম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেন। সেইফার্টকে ফিফটির পর থামাতে পারলেও অ্যালেনকে কিছুতেই আটকানো যায়নি! সেমিফাইনালের মতো হাই ভোল্টেজ ম্যাচে এসে ৩৩ বলে অপরাজিত সেঞ্চুরি করেছেন। যা টেস্ট খেলুড়ে দুটি দেশের মধ্যে কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। শেষে যখন দলের জয়ের জন্য ১ রান দরকার, তখন অ্যালেনের সেঞ্চুরির জন্য দরকার ৪। অ্যালেনও বাউন্ডারি মেরেই পৌঁছেছেন তিন অঙ্কে। অপরাজিত সেঞ্চুরির ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ৮টি ছয়। বিশ্বকাপের আগের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি ছিল ক্রিস গেইলের। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৭ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন গেইল।

ইডেনে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ অপরাজিত ৫৫ রান করেছেন জানসেন। জবাবে ১২ ওভার ৫ বলে এক উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড।
একের পর এক বাউন্ডারিতে পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারেই ৮৪ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। টি২০তে বিশ্বকাপের নকআউটেই এটা সর্বোচ্চ পাওয়ারপ্লের রান। মাত্র ২৮ বলে সেইফার্ট আর ফিন অ্যালেন অর্ধশতরান পেয়ে যান ১৯ বলে। এরপর ৩৩ বলে ৫৮ রান করা সাইফার্ট আউট হয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরলেও, ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বদলায়নি। ওই একটাই উইকেট হারিয়েছে কিউয়িরা। ১১ বলে অপরাজিত ১৩ রান করে শেষ দিকে অ্যালেনকে সঙ্গ দিয়েছেন রাচিন রবীন্দ্র।

এর আগে ৭৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে একটা সময় বড় বিপদে পড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখান থেকে মার্কো জানসেনের ফিফটিতে ঘুরে দাঁড়ায় প্রোটিয়ারা। ৮ উইকেটে ১৬৯ রান তোলে প্রোটিয়ারা। যা সহজেই জিতে ২০২১ সালের পর আবারও টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল নিউজিল্যান্ড।
