দিল্লির বৈঠকে অপমানের অভিযোগ, পাল্টা চাপের রাজনীতি—ভারতীয় ফুটবলের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন
ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা এআইএফএফের অন্দরে বিতর্কের আগুন ফের জ্বলে উঠেছে। এবার সরাসরি সভাপতি কল্যাণ চৌবে, সহ-সভাপতি এনএ হ্যারিস এবং সহ-সচিব এম সত্যনারায়ণের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন ফেডারেশনের মহিলা কমিটির প্রধান ভালাঙ্কা আলেমাও।
অভিযোগ, গত ২৯ মার্চ দিল্লির ফুটবল হাউসে কার্যকরী কমিটির বৈঠকে তাঁকে বারবার থামিয়ে দেওয়া হয়, কথা বলতে দেওয়া হয়নি এবং অপমানজনক মন্তব্য করা হয়। বিষয়টি নিয়ে এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভালাঙ্কা। তাঁর দাবি, বৈঠক জুড়ে তাঁকে লক্ষ্য করে চড়া গলায় কথা বলা হয়েছে এবং মানসিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘সভাপতি ও অন্যান্য কর্তা আমার ওপর চিৎকার করে কথা বলেন। আমাকে ভীত করার চেষ্টা করা হয় এবং বারবার অসম্মানজনক মন্তব্য করা হয়। পুরো বৈঠকেই আমাকে টার্গেট করা হয়েছে।’ ভালাঙ্কা আলেমাওয়ের সঙ্গে কল্যাণ চৌবের মতবিরোধ অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও ফেডারেশনের কাজের ধরন, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় মহিলা এশিয়ান কাপ চলাকালীন সংগঠনগত ত্রুটি নিয়ে সরব হয়েছিলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে না নিয়ে কয়েকজন কর্তা নিজেদের মধ্যেই তা চূড়ান্ত করেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ভালাঙ্কা আলেমাও শুধু চার্চিল ব্রাদার্সের সিইও-ই নন, তিনি গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কন্যা এবং ২০২৫-২৯ মেয়াদে ফিফার মহিলা ফুটবল ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছেন-প্রথম ভারতীয় হিসেবে। এমন একজন আন্তর্জাতিক মানের প্রশাসকের সঙ্গে দেশের ফেডারেশনের এই আচরণে প্রশ্ন উঠছে ভারতীয় ফুটবলের ভাবমূর্তি নিয়ে।
অন্যদিকে, এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা সুর চড়িয়েছে এআইএফএফ। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, চার্চিল ব্রাদার্সকে আইএসএলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চাপ তৈরি করতেই এই ধরনের অভিযোগ আনা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, একের পর এক বিতর্কে জর্জরিত ভারতীয় ফুটবল প্রশাসন। কল্যাণ-ভালাঙ্কা দ্বন্দ্বে ফের প্রকাশ্যে এল ফেডারেশনের অন্তর্দ্বন্দ্ব, যা ভবিষ্যতে ভারতীয় ফুটবলের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ক্রীড়ামহলে।
