টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের বাইরে আজ্জুরি! ভাঙনের সুরে বিদায় বুফোঁ-গাত্তুসোদের

0

একটা সময় যে নীল জার্সি মানেই ছিল গৌরব, আবেগ আর অদম্য লড়াই-আজ সেই ইতালিই যেন হারিয়ে ফেলেছে নিজের পরিচয়। ২০০৬ সালের বার্লিনের সেই স্বর্ণোজ্জ্বল রাত এখন শুধুই স্মৃতি। তারপর থেকে একের পর এক ব্যর্থতার অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে ইতালীয় ফুটবল। ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়, ২০১৮ সালে সুইডেনের কাছে হেরে মূল পর্বে উঠতেই না পারা, ২০২২-এ উত্তর মেসিডোনিয়ার ধাক্কা-সব মিলিয়ে আজ্জুরিদের পতনের কাহিনি দীর্ঘদিনের। সেই ব্যর্থতার ধারাবাহিকতায় এবার বসনিয়ার কাছে হেরে ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্যও অপেক্ষা বাড়ল ইতালির।

ফিফা ক্রমতালিকায় ১২ নম্বরে থাকা দলটি যখন ৬৫ নম্বরের বসনিয়ার কাছে হারে, তখন তা আর শুধু হার নয়-এ যেন এক গর্বিত ফুটবল জাতির আত্মসম্মানে গভীর আঘাত। মাঠে যেমন হতাশা, তেমনই মাঠের বাইরে শুরু হয়েছে ভাঙনের সুর। এই ব্যর্থতায় দায়িত্বে থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ইতালির ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) প্রধান গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা। এরপর দায় কাঁধে নিয়ে  সরেছেন কিংবদন্তি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফোঁ। ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা আবেগঘন বার্তায় জানিয়েছেন, চোখের জল আর বুকভরা কষ্ট নিয়েই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর কথায় স্পষ্ট-জাতীয় দলকে বিশ্বকাপে ফেরানোর স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রণা এখনও তাজা। শুধু বুফোঁই নন, পদত্যাগ করেছেন কোচ জেনারো গাত্তুসোও। তিনিও স্বীকার করেছেন, নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া আর কোনও পথ ছিল না।

একসময়ের ফুটবল পরাশক্তি ইতালির এই ধারাবাহিক পতন এখন আর আকস্মিক নয়, বরং এক গভীর সংকটের প্রতিফলন। তৃণমূল স্তর থেকে শুরু করে সিরি এ-সব ক্ষেত্রেই প্রয়োজন আমূল পরিবর্তন।
৪৮ দলের বিশ্বকাপেও যখন জায়গা করে নিতে পারছে না ইতালি, তখন প্রশ্ন উঠছে-এ কি শুধুই একটি দলের ব্যর্থতা, নাকি এক গৌরবময় ইতিহাসের ধীরে ধীরে মুছে যাওয়ার গল্প?

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *