সুবিধা পেয়েও বাংলা পারেনা, ৬৭ বছর পর প্রতিবন্ধকতা জয় করে রঞ্জিতে ইতিহাস জম্মু কাশ্মীরের
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ’৩৩ বছর’ কেন, ৩৭ বছর হয়ে গেছে বাংলার হয়ে কেউ কথা রাখেনি। একাধিকবার ফাইনাল। একাধিকবারই স্বপ্নভঙ্গ। ১৯৮৯ এর পর দীর্ঘ ৩৭ বছর কেটে গেছে বাংলা রঞ্জি জিততে ব্যর্থ। প্রতিবার নিয়মমাফিক ময়নাতদন্তে বসেন সিএবির কর্তারা। কিন্তু ফল বদলায় না। এ বার ঘরের মাঠে যে জম্মু ও কাশ্মীরকে হারিয়ে ফাইনালে চলে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল বাংলা, সেই বাংলাই দেখল জম্মু ও কাশ্মীর যারা ৬৭ বছর পর ইতিহাস গড়ে রঞ্জি জয় করে ফেলল। বাংলাকে শেখাল আবহাওয়া প্রতিকূল থাকতে পারে, অত্যাধুনিক পরিকাঠামো নাও থাকতে পারে, দারুণ কোচিং ক্যাম্প নাও হতে পারে, ক্লাব ক্রিকেট খেলার পর্যাপ্ত সুযোগ নাও হতে পারে। তবু নিজেদের জেদ, পরিশ্রম ও দলগত মানসিকতার জোরে চ্যাম্পিয়ন হওয়া যায়।

ঘরোয়া প্রতিযোগিতা রঞ্জি ট্রফিতে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জম্মু-কাশ্মীর। ফাইনালে প্রথম ইনিংসে ২৯১ রানের লিড নেওয়ার পর কর্ণাটকের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে ট্রফি জিতেছে তারা।১৯৫৯-৬০ মরসুমে প্রথমবার রঞ্জি ট্রফিতে খেলা শুরু করে জম্মু কাশ্মীর। তারপর গত কয়েক দশক ধরে তাদের অংশ নেওয়া ছিল আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার ব্যাপার। পাঁচটি দিন ভালো লড়াই দেখাতে পারে কি না, সেটাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ।এর আগে যে দল কখনও রঞ্জির সেমিফাইনালেও উঠতে পারেনি, সেই তারাই এ বার পাঁচ দিন আধিপত্য দেখিয়ে ট্রফি জিতল পরশ দোগরার দল।

রঞ্জির ফাইনালের শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল জম্মু-কাশ্মীরের হাতে। প্রথম ইনিংসে তারা তোলে ৫৮৪ রান। জবাবে কর্নাটক থামে ২৯৩ রানে। ২৯১ রানের বিশাল লিড পেয়ে কার্যত ম্যাচ নিজেদের পকেটে পুরে ফেলেন অধিনায়ক পরশ দোগরারা। ফলো অন করানোর সুযোগ থাকলেও ঝুঁকি না নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় দল।দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ৪ উইকেটে ৩৪২ রানে। ফলে কর্নাটকের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় কার্যত অসম্ভব ৬৩৩ রান। হার মেনে নেয় কর্নাটক।জম্মু-কাশ্মীরের ট্রফি জেতার পেছনে বড় অবদান রেখেছেন আকিব নবি। টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত বোলিংয়ে এই পেসারের শিকার ৬০ উইকেট। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ওঠেছে নবির হাতে। ফাইনালেও ৫ উইকেট নেন তিনি।
খেলা দেখতে মাঠে এসেছিলেন সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুলা। ঐতিহাসিক জয়ে উচ্ছ্বসিতও। চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ২ কোটি টাকা পুরস্কারও সঙ্গে সঙ্গে ঘোষণা করেন তিনি।

