সরস্বতী পুজোয় বইপুজো, তার আগেই  বাজল বইমেলার ঘণ্টাধ্বনি, মুখ্যমন্ত্রী গড়বেন বইতীর্থ

0

শুক্রবার সরস্বতী পুজো। কচিকাঁচা থেকে ছোট-বড় সকলেই মেতে উঠবে দেবী বন্দনায়। সেইসঙ্গে বইপুজোও। তার আগেই বৃহস্পতিবার থেকে কলকাতা বইমেলা শুরু হয়ে গেল। ৪৯ তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে সলতে পাকানোও শুরু হয়ে গেল আগামীবারের সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষের। মুখ্যমন্ত্রী উদ্বোধনে এসে জানিয়ে দিলেন, বইমেলার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের আগেই কলকাতায় বইমেলা প্রাঙ্গনেই তৈরি হবে স্থায়ী বইবাজার ‘বই তীর্থ’।

যেখানে রাজ্য সরকার ১০ কোটি টাকা খরচ করবে। বৃহস্পতির বিকেলে সল্টলেকের বইমেলা প্রাঙ্গণে চিরাচরিত কাঠের ঘন্টাধ্বনির মাধ্যমে বইমেলার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই বইমেলায় প্রবেশ বইপ্রেমীদের জন্য অবাধই থাকছে। এবার বইমেলায়  ২০টি দেশ যোগদান করেছে। এ বার থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা। উদ্বোধনে এসেছিলেন সে দেশের বিশিষ্ট সাহিত্যিক গুস্তাবো কানসোব্রে। রাজ্যের অন্যান্য মন্ত্রীদের পাশাপাশি ছিলেন ভারতে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো কাউসিনোও।

মেলায় শতবার্ষিকী শ্রদ্ধার্ঘ্য জানান হবে গীতিকার সুরকার সলিল চৌধুরী,প্রখ্যাত শিল্পী ভূপেন হাজারিকা ও লেখক শিল্পী ময়ূখ চৌধুরীকে। পাবলিশার্স এন্ড বুক সেলার্স গিল্ডের সভাপতি সুধাংশুশেখর দে জানিয়েছেন ,মেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে স্টল থাকছে এক হাজারের বেশি। লিটিল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়ন হয়েছে কবি রাহুল পুরোকায়স্থর নামে।

উদ্বোধনে এসে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমার একমাত্র ইনকাম বইয়ের রয়্যালটি। সাংসদ হিসেবে সাতবার জিতেছি, চাইলে মাসে দেড় লক্ষ টাকা পেনশন পেতে পারতাম। কিন্তু ১৫ বছর ধরে এক পয়সা নিইনি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও সরকারের থেকে কোনো বেতন নিই না।’ এদিন, মুখ্যমন্ত্রীর ৯টি বই প্রকাশ পেয়েছে। সব মিলিয়ে তাঁর লেখা বইয়ের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬২। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বলেন, ‘এখন সবাই অবশ্য বই থেকে অনেকটা দূরে। তার কারণও আছে, আমরা এগিয়ে চলেছি। যুগের সঙ্গে খাপ খাইয়ে। এখন হাতে এসে গেছে স্মার্ট ফোন, হাতে এসে গিয়েছে কম্পিউটার। হাতে এসে গিয়েছে এআই। সব কিছু পেয়ে যাচ্ছে। বইয়ের দিকে ঝোঁকটা কি একটু কি কমে যাচ্ছে। যারা কিন্তু বইপ্রেমী তাঁরা কিন্তু কমছেন না। আমি অবশ্য লেখার টাইম পাই না। আমি ছোটখাটো লিখি। খুব অপ্রতুল। আমি জ্ঞানীগুণী মানুষ নেই। আমি কম গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। যতটুকু টাইম পাই, ওই যখন জেলায় যাওয়ার সুযোগ হয়, বছরে তো ৯ মাস ওটা চলেই না। আমি কিন্তু সেই সময়টা বই লিখি। এবং প্লেনেও যদি আমি কোথাও যাত্রা করি। তখনও আমি বই লিখি। কম্পিউটারে টাইপ করতে আমার ভাল লাগে না। আমি হাতে লিখি, তা পরে বই হিসেবে প্রকাশিত হয়’।


আই.এফ.এ-র স্টল উদ্বোধন করলেন রাজ্যের  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, উপস্থিত ছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, পশ্চিমবঙ্গের অগ্নি নির্বাপন ও দমকল মন্ত্রী  সুজিত বসু, পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী, আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত সহ অন্যরা।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *