লিড নিয়েও ব্যাটিং বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত বাংলা, হারের আশঙ্কার মাঝেই শেষ চেষ্টার আশায় বোলাররা
কী সুন্দর মহম্মদ শামির বোলিং স্পেল। কী দারুণ প্রথম ইনিংসে ছোট্ট করে এগিয়ে থাকা বাংলার। এরপরই ব্যাটিং বিপর্যয়। বিধ্বস্ত বাংলা নকআউটে। এ ছবি মেলানোই দুস্কর। রঞ্জি সেমিফাইনালে বাংলার প্রথম ইনিংসে ৩২৮ রানের জবাবে মহম্মদ শামির ৮ উইকেট তুলে নিতে, জম্মু কাশ্মীরের ইনিংস গুটিয়ে যায় ৩০২ রানে। তাতে ২৬ রানে এগিয়ে থেকেই ফের ব্যাটিংয়ে নামে বাংলা। হাতে সময় ছিল। কিন্তু সময় নিয়ে ব্যাটিং করতে পারলেন না কেউই। আয়ারাম আর গয়ারাম। কেন? কেউ জানে না। নক আউট পর্বে এভাবেই কেন নার্ভফেল বারবার বাংলার ক্রিকেটারদের, তার কোনও সমাধান নেই। প্রথম ইনিংসে তিনশো তোলা বাংলার ব্যাটাররা, সবাই মিলে দ্বিতীয় ইনিংসে ১০০ রানের গণ্ডি টপকাতেও ব্যর্থ। ৯৯ রানে অলআউট। দলের সর্বোচ্চ রান শাহবাজ আহমেদের ২৪। এরপর সুরজ সিন্ধু জয়সওয়ালের ১৪। অনুষ্টুপ মজুমদারের ১২।শাকির গান্ধির ১০ ও মহম্মদ শামি ১১। বাকি সব এক অঙ্কেই। এরমধ্যে সুদীপ চট্টোপাধ্যায়, প্রথম ইনিংসে দুরন্ত শতরান করা সুদীপ ঘরামি, আকাশ দীপ তিনজনে খাতাই খুলতে পারেননি। জম্মু কাশ্মীরের আকিব নবী ও সুনীল কুমার দু’জনেই চারটি করে উইকেট নেন।

অঙ্কটা একদম পরিষ্কার। ফাইনালের টিকিট জোগাড় করতে হলে সেই শামি-মুকেশদের মুখাপেক্ষী হয়েই থাকতে হবে বাংলাকে। কারণ, জিততে দরকার ৮ উইকেট। অন্যদিকে জম্মু কাশ্মীর দ্বিতীয় ইনিংসে তুলেছে ২ উইকেট হারিয়ে ৪৩ রান। জয়ের জন্য দরকার ৮৩ রান, হাতে ৮ উইকেট। বাংলার বোলাররা মিরাকেল করলে ভাল, না হলে সেমিফাইনালেই দৌড় থামবে লক্ষ্মীরতন শুক্লার স্বপ্নের।
স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছে মহম্মদ শামির আগুনে বোলিং। প্রথম ইনিংসে জম্মু ও কাশ্মীরের ব্যাটিংয়ের কোমর একাই ভেঙে দেন শামি।৮ উইকেট নিয়ে বিপক্ষ শিবিরের ব্যাটিং লাইন আপকে তছনছ করে দিয়েছেন। ৯০ রান দিয়ে তুললেন ৮ উইকেট পেয়েছেন বাংলার তারকা পেসার। রঞ্জিতে ট্রফি যা তাঁর ব্যক্তিগত নজির হয়ে রইল। এর আগে রঞ্জিতে ৭৯ রান দিয়ে ৭ উইকেট তুলেছিলেন। বাকি দুটি উইকেট পান ২ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে জম্মু কাশ্মীরের ২ উইকেট নেন আকাশ দীপ। বাকি ৮ উইকেট কি আসবে? একদিকে লড়াইয়ের শেষচেষ্টা অন্যদিকে হারের আশঙ্কায় নির্ঘুমই কাটার কথা বাংলা শিবিরে।
