ভিভ রিচার্ডসকে কি ঘৃণা করেন নীনা? কী উত্তর দিলেন প্রবীণ অভিনেত্রী?

0

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠাৎই ছড়িয়ে পড়ে নীনা গুপ্তর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর।  ৬৬ বছর বয়সে আবার মা হবেন!  জনপ্রিয় তারকা জুটি বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রশ্মিকা মন্দানা-র রিসেপশন অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিয়ো দেখে নেটিজেনরা দাবি করে, তাঁর শাড়ির উপর থেকে পেট খানিকটা স্ফীত লাগছিল। তিনি অন্তঃসত্ত্বা, অনেকেই এমন জল্পনা শুরু করেন। তবে সেই গুজবের জবাব দিতে গিয়েই নিজের স্বভাবসিদ্ধ রসিকতায় বিষয়টিকে উড়িয়ে দিলেন অভিনেত্রী।

এক সাক্ষাৎকারে নীনা স্পষ্ট বলেন, “এগুলো একেবারেই গুজব। আমি অন্তঃসত্ত্বা নই। আসলে যে শাড়িটি পরেছিলাম তার কাপড়টা একটু মোটা ছিল, তাই হয়তো আমাকে ভারী দেখাচ্ছিল।” মজার ছলে তিনি আরও বলেন, যদি সত্যিই এমনটা হত, তবে সেটা বাস্তব জীবনের ‘বাধাই হো’ হয়ে যেত।

এই প্রসঙ্গেই আবার সামনে আসে নীনা গুপ্তর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আশির দশকের শেষ দিকে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ভিভ রিচার্ডসের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। সেই সময়েই নীনা জানতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা। তবে তখন তাঁদের বিয়ে হয়নি। সমাজের নানা চাপ ও সমালোচনা সত্ত্বেও সন্তানকে জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নীনা। একা হাতেই মেয়ে মাসাবা গুপ্তকে বড় করে তোলেন তিনি। বর্তমানে মাসাবা একজন পরিচিত ফ্যাশন ডিজাইনার এবং অভিনেত্রী।

ভিভ রিচার্ডসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠলে নীনা একবার স্পষ্ট বলেছিলেন, “যদি সত্যি কাউকে ভালোবাসেন, তা হলে তাঁকে ঘৃণা করা সম্ভব নয়। আমি আমার প্রাক্তন প্রেমিকদের ঘৃণা করি না, প্রাক্তন স্বামীকেও না। যদি কাউকে এতটাই খারাপ লাগত, তাহলে কি আমি তাঁর সন্তানকে জন্ম দিতাম? আমি কি পাগল?”
নিজের আত্মজীবনী ‘সচ কহুঁ তো’-তেও সেই সময়কার কথা লিখেছেন নীনা। তিনি জানান, অনেকেই তাঁকে গর্ভপাতের পরামর্শ দিয়েছিলেন, আবার কেউ কেউ একা সন্তান মানুষ করার কঠিন দিকগুলো নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের মনের কথা শুনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। সেই সময়কার সমাজব্যবস্থায় এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দেয়।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নীনা গুপ্ত বহুবার বলেছেন, সিঙ্গল মাদার হিসেবে সন্তানকে বড় করা সহজ ছিল না। তবু কাজ এবং মাতৃত্ব, দুটোই সমানভাবে সামলে তিনি নিজের জীবনকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *