ফাইনালে নবীন-প্রবীণ! সেমিতে প্রত্যাবর্তনের গল্প জকোভিচের, মহাকাব্যিক লড়াই আলকারাজের
রবিবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে বুড়ো ঘোড়া বনাম তারুণ্যের ঝলক। খেতাব কার, সেই লড়াইয়ে খেলতে নামবেন ৩৮ বছরের জকোভিচ ও ২২ বছরের আলকারাজ। কেউ যে ফাইনালের মঞ্চে ছাড়বেন না কাউকেই, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন সেমিফাইনালেই। আলেকজান্ডার জভেরেভকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে জায়গা করে নিলেন স্পেনের কার্লোস আলকারাজ। পাঁচ ঘণ্টা ২৭ মিনিটের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে আলকারাজ জিতেছেন ৬-৪, ৭-৬ (৭-৫), ৬-৭ (৩-৭), ৬-৭ (৪-৭), ৭-৫ গেমে। যা মেলবোর্নের দর্শকদের শ্বাসরুদ্ধই করে রেখেছিল। অন্য সেমিফাইনালে মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছেন আবার সার্বিয়ান টেনিস তারকা নোভাক জকোভিচ। দুই নম্বরে থাকা জানিক সিনারের বিরুদ্ধে পাঁচ সেটে গড়ানো চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে এক লড়াই। শেষ পর্যন্ত ৩-৬, ৬-৩, ৪-৬, ৬-৪, ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পান জকোভিচ। জকোভিচ জেতার পরই দু’হাঁটু গেড়ে বসে পড়েছেন কোর্টে। দু’হাত তুলে করেছেন সেলিব্রেশন। তাতেই রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম খেতাবের জন্য বেড়ে গেল জোকারের। এই জয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ও যোগ করলেন জকোভিচ।ওপেন যুগে সবচেয়ে বেশি বয়সে ফাইনালে ওঠা পুরুষ খেলোয়াড় এখন তিনি। এটা তাঁর কেরিয়ারের ১১তম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনাল এবং সব মিলিয়ে ৩৮তম গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনাল।খেতাব জিতলে ইতিহাস গড়ার সামনে রয়েছেন আলকারাজও। জিততে পারলে তিনিই হবেন সবচেয়ে কম বয়সে কেরিয়ার গ্র্যান্ড স্লাম পূর্ণ করা পুরুষ খেলোয়াড়।
রড লেভার অ্যারেনায় সিনারের বিপক্ষে দুর্দম্য লড়াই প্রমাণ করে দিল, জকোভিচ ভেতরে এখনও ফুরিয়ে যায়নি লড়াইয়ের রসদ। ২০২৩ সালের ইউএস ওপনের পর আর কোনো গ্র্যান্ড স্লাম জেতেননি। এ বার অবসান ঘটাতে চান তিনি। প্রথম তিন সেটের মধ্যে দুটোতেই হেরে যান জকোভিচ। এরপরও দমে যাননি তিনি। ফিরে আসেন, ম্যাচও জেতেন।জকোভিচেরই নিজের তিনটি সেটই তিনি জেতেন স্ট্রেট সেটে৷ ম্যাচ জেতার পর তিনি বলেন, ‘চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে খেলেছি, অবাস্তব মনে হচ্ছে। ২০১২ সালের কথা মনে পড়ছে, যখন রাফায়েল নাদালের বিপক্ষে ফাইনাল খেলেছিলাম, সেদিন ম্যাচটা প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে হয়েছিল।’ অন্যদিকে শারীরিকভাবে অস্বস্তিবোধ করলেও শেষপর্যন্ত নাটকীয় জয়ে ফাইনালের টিকিট পান আলকারাজ। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় বলি, যে পরিস্থিতিই হোক, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। এই দর্শকরা না থাকলে আমি আজ এখানে পৌঁছাতে পারতাম না। প্রতিটি পয়েন্টে যেভাবে আমাকে আবার ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছেন, সেটা অবিশ্বাস্য।’ এই জয়ের মধ্যে দিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপনের ফাইনালে আবারও দেখা যাবে পুরোনো দ্বৈরথ। খেতাবী লড়াইয়ে জোকোভিচের সামনে কার্লোস আলকারাজ। একদিকে জকোভিচের সামনে সবচেয়ে বেশি বয়সে গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের হাতছানি। অন্যদিকে আলকারাজ চাইবেন সবচেয়ে কম বয়সে কেরিয়ার গ্র্যান্ড স্লাম জয় পূর্ণ করতে।
