বন্ধু রাহুলকে কবিতাঞ্জলি শ্রীজাতের, কী লিখলেন কবি?

0



সমুদ্র নাকি কিছুই নেয় না,সব ফিরিয়ে দেয়। তবে রাহুলের ক্ষেত্রে এই প্রবাদ ব্যতিক্রম হল কেন ? জীবনের হিসাব সমসময় প্রবাদ মানে না। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দোপাধ্যায়ের হঠাৎ চলে যাওয়া যেন সেই বিশ্বাসকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাল।তালসারির ঢেউ কেড়ে নিল একটা তরতাজা প্রাণ,ফিরিয়ে দিল না কিছুই। পড়ে রইল স্মৃতি,শূন্যতা ও অনেক না বলা কথা। মাত্র ৪২ বছর বয়সে এমন পরিণতি মেনে নেওয়া কঠিন।এই গভীর শোকের আবহেই কলম ধরলেন কবি শ্রীজাত বন্দোপাধ্যায়। তাঁর লেখা যেন শুধু কবিতা নয় ,এক বন্ধুর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা ,শেষ আলাপ।

রাহুলের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তকে নিয়ে লিখেছেন ‘ভালবাসি’ বলে একটি কবিতা। সেখানে কবি লিখেছেন,”সমুদ্র কিছু নেয় না, ফিরিয়ে দেয় এ-প্রবাদ তুমি মিথ্যে করলে আজ। খুচরোর মতো আয়ুর এমন ব্যয় , সূর্যাস্তকে মনে হলো দাহকাজ।তোমাকে দেখছি শুয়ে আছ টানটান। লাল নিশান আর নীল-সাদা জার্সিটা…ছাই খুঁজে নেয় জলের অন্ত্যমিলও,এত সহজে তো নিভবে না এই চিতা!আমরা বইব এই আগুনের ভার।খেলার ছলেও মানবো না শেষ বাঁশি।এই তো শাস্তি, তুমি না-ই শোনো আরযতদিন আছি, বলে যাব ভালবাসি।”

একসময় রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের পডকাস্ট ‘সহজ কথা’-য় অতিথি হয়ে এসেছিলেন শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আড্ডায় দু’জনেই একে অপরের ভিতরের ‘লেখক সত্ত্বা’কে গভীরভাবে সম্মান করেছিলেন। কথাবার্তার ভঙ্গি আর পারস্পরিক বোঝাপড়া থেকেই স্পষ্ট ছিল, এই সম্পর্ক শুধু পেশাগত নয় ভিতরে ছিল আন্তরিক বন্ধুত্বের জায়গা। শ্রীজাত এতটাই বিশ্বাস করতেন রাহুলের সাহিত্যবোধে যে নিজের অপ্রকাশিত উপন্যাসও তাঁকে পড়তে দিয়েছিলেন। অন্যদিকে রাহুলও তাঁর লেখা ভাগ করে নিতেন বন্ধুর সঙ্গে। লেখালেখি, গান, সিনেমা থেকে শুরু করে রাজনীতি—সবকিছু নিয়েই চলত তাঁদের নিরন্তর আলোচনা।

আজ সেই সব মুহূর্তই ফিরে এসেছে স্মৃতির পাতায়। কবিতার প্রতিটি লাইনে যেন জমে আছে বন্ধুর প্রতি শোক। বন্ধুকে হারানোর অসহায়তা, সময়কে থামাতে না পারার আক্ষেপ, আর এক গভীর ভালবাসা। রাহুলকে ঘিরে লেখা নিজের ‘কবিতাঞ্জলী’-তে শ্রীজাত যেন সেইসব আড্ডা, সেই বন্ধুত্ব আর সৃষ্টিশীল আদানপ্রদানের স্মৃতিকেই উজাড় করে দিয়েছেন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *