অদ্ভুত কাকতালীয়! ৬ মাসের ব্যবধানে সমুদ্রের জলই হয়ে উঠল জুবিন ও রাহুলের জীবনের শেষ সীমানা!
জল-জীবনের প্রতীক। অথচ সেই জলই কখনও কখনও হয়ে ওঠে জীবনের শেষ সীমানা। ‘পিয়া রে’ গানের সুরে যাঁরা একসময় প্রেম, বেদনা আর অপেক্ষার অনুভূতিকে ছুঁয়েছিলেন, সেই দুই শিল্পী-জুবিন গর্গ ও রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-শেষমেশ হারিয়ে গেলেন একই পরিণতিতে, সমুদ্রের গভীরে।
টলিউডের জনপ্রিয় ছবি ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’। সেই ছবির আইকনিক গান ‘পিয়া রে’- একদিকে জুবিনের কণ্ঠে হৃদয়ভাঙা আর্তি, অন্যদিকে রাহুলের চোখে ব্যর্থ প্রেমের যন্ত্রণা। এক গানেই জড়িয়ে গিয়েছিল দু’টি জীবন, দু’টি অনুভূতি। আর আজ, সময়ের নির্মম পরিহাসে, সেই গানই যেন হয়ে উঠেছে তাঁদের জীবনের ট্র্যাজেডির প্রতিধ্বনি। ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, সিঙ্গাপুরের সমুদ্রে তলিয়ে যান জুবিন গর্গ। জানা যায়, নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালে যোগ দিতে গিয়ে ঘটে সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। অসমের এই কালচারাল আইকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল গোটা দেশে।
ঠিক ছয় মাস পর, ২৯ মার্চ। দিঘার তালসারি সৈকতে শুটিং চলছিল রাহুলের। শুটিংয়েই সমুদ্র কেড়ে নিল জীবন।দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও আর ফেরানো যায়নি তাঁকে। সমুদ্রের ঢেউ যেন নিঃশব্দে কেড়ে নিল আরেকটি প্রাণ-যে প্রাণ একদিন ‘পিয়া রে’ গানের আবেগকে মুখে ফুটিয়ে তুলেছিল। এই কাকতালীয়তা শুধু সময়ের নয়, সম্পর্কেরও। জুবিনের মৃত্যুর খবর রাহুলকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘একজন বন্ধুকে হারালাম, ও চিরসখা ছিল আমার’। সেই বন্ধুর পথেই যে তিনিও হেঁটে যাবেন, তা হয়তো কেউ ভাবেননি। ২০০৮ সালের সেই সিনেমা, সেই গান-যা একসময় লাখো প্রেমিক-প্রেমিকার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিল—আজ যেন অন্য অর্থে ফিরে এসেছে। জুবিনের কণ্ঠে যে হাহাকার, রাহুলের চোখে যে ব্যথা-সব মিলিয়ে ‘পিয়া রে’ এখন আর শুধু গান নয়, এক গভীর শূন্যতার নাম।
রাহুল শুধু অভিনেতা ছিলেন না-তিনি ছিলেন একজন লেখক, থিয়েটার শিল্পী, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। আর জুবিন-উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। দুই ভুবনের দুই তারকা, অথচ এক অদ্ভুত সমাপ্তিতে মিলিয়ে গেলেন তাঁরা। সমাজ মাধ্যমে এখন শোক, বিস্ময় আর প্রশ্নের ঢেউ। অনেকেই এই ঘটনাকে নিছক কাকতালীয় বলে মানতে পারছেন না। সমুদ্র-যেখানে মানুষ খুঁজে পায় শান্তি, সেই সমুদ্রই কেড়ে নিল দুই শিল্পীর জীবন।
শেষ পর্যন্ত থেকে গেল একটাই অনুভূতি- একটি গান, দুটি জীবন, আর এক গভীর নীরবতা।
‘পিয়া রে’ আজও বাজে— তবে প্রেমের নয়, যেন বিদায়ের সুরে।
