‘প্রাক্তন’এর জাদুতে বর্তমানের মুগ্ধতা! ‘ধুরন্ধর ২’ তে রণবীরকে দেখে আবেগাপ্লুত অনুষ্কা, সঙ্গে বিরাটও
একসময় বলিউডের অন্দরমহলে ফিসফাস ছিল তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে—‘ব্যান্ড বাজা বারাত’-এর সেটে নাকি বন্ধুত্ব পেরিয়ে আরও গভীরে পৌঁছেছিল রণবীর সিং ও অনুষ্কা শর্মার সমীকরণ। সময়ের সঙ্গে সেই গল্প চাপা পড়েছে, বদলেছে জীবনের অধ্যায়। কিন্তু ‘ধুরন্ধর ২’ যেন হঠাৎই ফিরিয়ে আনল সেই পুরনো স্মৃতির ছায়া—আর তাতেই তৈরি হল নতুন চর্চা, নতুন আবেগ।
রণবীর সিং অভিনীত ‘ধুরন্ধর দ্য রিভেঞ্জ’ মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল এক আলাদা উন্মাদনা। এই ছবিই এবার একসূত্রে বেঁধে দিল যেন প্রাক্তন ও বর্তমানকে। সিনেমা দেখতে নিয়ে গেলেন স্বামী বিরাট কোহলিকেও।
ছবি দেখার পর অনুষ্কার প্রতিক্রিয়ায় ছিল নিখাদ আবেগ। দীর্ঘ প্রায় চার ঘণ্টার সিনেমায় এক মুহূর্তের জন্যও মনোযোগ হারাননি তিনি। পরিচালক আদিত্য ধরের নির্মাণশৈলী, গল্প বলার গতি এবং আবেগের গভীরতায় মুগ্ধ হয়ে অনুষ্কা লেখেন, ‘এত বড় একটি সিনেমাকে এইভাবে ধরে রাখা সত্যিই অসাধারণ।’ তবে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করেছেন রণবীর সিংয়ের অভিনয়ের। অনুষ্কার কথায়, ‘রণবীর তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স দিয়েছে। চরিত্রটাকে যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছ, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।”
আর এখানেই থেমে থাকেননি অনুষ্কা। সেই মুগ্ধতা পৌঁছে যায় বিরাট কোহলির কাছেও। অনুষ্কার হাত ধরেই ‘ধুরন্ধর ২’ দেখা বিরাটের প্রতিক্রিয়াতেও ধরা পড়ে গভীর আবেগ। তিনি জানান, এর আগে কোনও ভারতীয় সিনেমা তাঁকে এভাবে নাড়িয়ে দেয়নি। ‘চার ঘণ্টা একটানা বসে থেকেছি, একবারও চোখ সরাইনি’—লেখেন বিরাট। রণবীরের অভিনয় নিয়ে তাঁর মন্তব্য আরও জোরালো—‘এই ছবির পর তুমি নিজেকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছো। তোমার অভিনয় অসাধারণেরও ঊর্ধ্বে।’
পরিচালক আদিত্য ধরের কাজ নিয়েও প্রশংসায় ভরিয়ে দেন ভারতীয় ক্রিকেটের এই তারকা। তাঁর মতে, ছবির প্রতিটি স্তরে পরিচালকের মেধা ও দৃঢ়তার ছাপ স্পষ্ট। বিরাটের এই প্রশংসায় আপ্লুত পরিচালকও তাঁকে ‘এক প্রজন্মে একবারই পাওয়া যায় এমন কিংবদন্তি’ বলে উল্লেখ করেন এবং জানান, এমন স্বীকৃতি তাঁর কাছে অত্যন্ত বিশেষ।
সব মিলিয়ে, ‘ধুরন্ধর ২’ শুধু একটি সিনেমা নয়—এ যেন আবেগ, স্মৃতি আর সময়ের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন। একদিকে ‘প্রাক্তন’-এর উজ্জ্বল উপস্থিতি, অন্যদিকে বর্তমানের ভালোবাসা—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে বিরুষ্কার মুগ্ধতা যেন ভক্তদের হৃদয়েও নতুন করে নাড়া দিল।
