‘পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে’, জনাদেশে উচ্ছ্বসিত মোদী, ঐতিহাসিক জয়ের দাবি শাহর
২০৮টি আসনে জয় বা এগিয়ে থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় সাফল্য অর্জন করেছে বিজেপি। টানা প্রায় ১৫ বছর ধরে গড়ে ওঠা শাসনভিত্তিতে ধাক্কা খেয়ে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে রাজ্যে সরকার বদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। বঙ্গজয়ে উচ্ছ্বসিত বিজেপি শিবিরে শুরু হয়েছে উদযাপন। ফলাফল সামনে আসতেই প্রথম প্রতিক্রিয়া দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ট্যুইটে তিনি লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে!’ মোদী লেখেন , ‘পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে! ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মানুষের শক্তিই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছে এবং সুশাসনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী বিজেপি বিজয় অর্জন করেছে। আমি পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি মানুষকে প্রণাম জানাই।’
মোদী তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁর মতে, এই ফলাফল প্রমাণ করেছে যে মানুষ সুশাসন, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পক্ষে রায় দিয়েছেন।তিনি বলেন, বাংলার মানুষ বিজেপির প্রতি যে বিপুল আস্থা দেখিয়েছেন তা শুধু একটি নির্বাচনী জয় নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি দায়বদ্ধতা।সেই দায়িত্বকে সম্মান জানিয়ে তিনি আশ্বাস দেন যে বিজেপি এমন একটি সরকার গঠন করবে, যা সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের জন্য সমান সুযোগ এবং মর্যাদা নিশ্চিত করবে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহএকটি দীর্ঘ ট্যুইটে করেন। শাহ তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, ‘এই বিপুল জনাদেশ ভয়, তোষণ এবং অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষকদের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষের জোরালো জবাব। এটি তৃণমূল কংগ্রেসের ভয়ের ওপর, নরেন্দ্র মোদী প্রতি ভরসার জয়।’ তিনি লেখেন, ‘বাংলার মানুষ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে তারা পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিজেপি।’ ট্যুইটে অমিত শাহ বিশেষভাবে তুলে ধরেন বিজেপি কর্মীদের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত বিজেপির পতাকা ওড়ার প্রতীকী চিত্র, যা এই জয়ের ভৌগোলিক বিস্তার এবং রাজনৈতিক তাৎপর্যকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি জানান, শূন্য থেকে শুরু করে আজ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছানো সহজ ছিল না।এই যাত্রাপথে অসংখ্য কর্মী তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, হিংসা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তবুও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।এই প্রেক্ষিতে শাহ সেই সমস্ত কর্মী ও তাঁদের পরিবারকে শ্রদ্ধা জানান, যাঁরা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দলের পতাকা ধরে রেখেছেন। তাঁর ভাষায়, এই জয় সেই ‘শহীদ’ কর্মীদের প্রতি বাংলার মানুষের শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ।একইসঙ্গে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও রাজ্য নেতৃত্বকেও অভিনন্দন জানান। তিনি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকার-সহ প্রত্যেক কর্মীর অবদানকে স্বীকৃতি দেন। চৈতন্য মহাপ্রভু, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই মহান ব্যক্তিত্বদের ভূমি বাংলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা এবং সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিজেপি নিরলসভাবে কাজ করবে।’
