রাজের গায়ে কাদা! তারকাদের ভোটযুদ্ধে টানটান লড়াই,কোথাও লিড কোথাও পিছিয়ে !

0

পিছিয়ে পড়তেই ব্যারাকপুরের তারকা প্রার্থী রাজ চক্রবর্তীর গায়ে কাদা ছোড়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তুঙ্গে। ভোট গণনা কেন্দ্র থেকে ফেরার পথেই তাকে দেখে জয় শ্রীরাম স্লোগান ওঠে। এরপরই একমুঠো কাদা তার দিকে ছুড়ে দেওয়া হয়। হতাশ রাজ অবশ্য প্রতিবাদ করেননি। মাথা নীচু করেই ছাড়তে হয়েছে কেন্দ্র। একটা ছবিতেই যেন পরিষ্কার হয়ে গেছে গোটা রাজ্যের ছবিটাও। টলিউড থেকে এবার বহু পরিচিত মুখেরা সরাসরি রাজনৈতিক ময়দানে নেমে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেছেন। নির্বাচনের আগে তাঁদের জনপ্রিয়তা নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা থাকলেও, ফলাফলের দিনে দেখা যাচ্ছে একেবারে ভিন্ন চিত্র। কোথাও তারকারা নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে পেরেছেন, আবার কোথাও পিছিয়ে পড়ে চাপে পড়েছেন। ফলে লড়াই ঘিরে রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও বাড়ছে আগ্রহ ও উত্তেজনা।
বর্তমান ট্রেন্ড অনুযায়ী, বিজেপি ১৯৬ টি আসনে, ৯০ টি আসনে তৃণমূল এবং সিপিএম ও কংগ্রেস ২ সিটে এবং অনান্যরা ২ টি সিটে এগিয়ে। আসানসোল দক্ষিণ থেকে জয়ী হওয়ার খবর পাওয়া গেছে বিজেপির তারকা প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের। সোনারপুর দক্ষিণে তেমনই জয়ের দোরগোড়ায় অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। শিবপুর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষ এগিয়ে রয়েছেন এবং শুরু থেকেই তিনি শক্ত লড়াই দিচ্ছেন। করিমপুরে তৃণমূলের সোহম চক্রবর্তীও ভাল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে নিজের জমি শক্ত করছেন। চন্দননগরে তৃণমূলের ইন্দ্রনীল সেন এগিয়ে থাকলেও পিছিয়ে পড়েছেন।  পাশাপাশি শ্যামপুর কেন্দ্রে বিজেপির হিরণ চট্টোপাধ্যায়ও গুরুত্বপূর্ণ লিড ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছেন।
অন্যদিকে, কয়েকটি কেন্দ্রে তারকা প্রার্থীরা প্রত্যাশামতো ফল করতে পারছেন না। বরানগরে তৃণমূলের সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় পিছিয়ে পড়েছেন, যা তাঁর শিবিরে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করেছে। ময়না কেন্দ্রে বিজেপির অশোক দিন্দাও লড়াইয়ে পিছিয়ে রয়েছেন। রাজগঞ্জে তৃণমূল প্রার্থী তথা আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদ স্বপ্না বর্মন প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে না পেরে পিছিয়ে আছেন। মানিকতলা কেন্দ্রে তৃণমূলের শ্রেয়া পাণ্ডেও বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে পিছিয়ে পড়েছেন, ফলে এই কেন্দ্রগুলিতে ফলাফল কোন দিকে মোড় নেবে তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।

এই ওঠানামা আবারও প্রমাণ করছে যে শুধুমাত্র তারকা খ্যাতি নির্বাচনে জয়ের নিশ্চয়তা দেয় না। স্থানীয় সমস্যা, সংগঠন, প্রার্থী হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ—এই সমস্ত বিষয়ই শেষ পর্যন্ত ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই যে টানটান থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed