‘আমি হ্যাঁ-তে হ্যাঁ বলার লোক নই’, গেরুয়া শিবিরে ফেরা নিয়ে কী বার্তা বাবুলের?

0



বাংলার সিংহাসনে প্রথমবার বিজেপি।শনিবার নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘ সাত বছর ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বিজেপি নেতা বাবুল সুপ্রিয়। তারপর যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। তবে বাংলায় গেরুয়া শিবিরের ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই শুরু হয়েছে জল্পনা। আবার কি পুরনো দলে ফিরতে পারেন বাবুল? সেই সমস্ত গুঞ্জনে এবার নিজেই জল দিলেন বাবুল সুপ্রিয়।

শনিবার সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ বার্তা পোস্ট করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন বাবুল। তিনি জানান, বিজেপিতে ফেরার কোনও পরিকল্পনাই তাঁর নেই। বাবুল লেখেন, “না,আমি একেবারেই এটা ভাবছি না।আমি হ্যাঁ-তে হ্যাঁ বলার লোক নই।”তিনি জানান, ব্যাঙ্কের চাকরি ছেড়ে মুম্বই যাওয়ার সময়ও বহু মানুষ তাঁকে ফিরে আসতে বলেছিলেন, এমনকি তাঁর বাবা-মাও। কিন্তু তিনি সিদ্ধান্ত বদলাননি।বিজেপিতে ফেরার জল্পনা নিয়ে বাবুলের সাফ কথা, “আমি বিজেপিতে ফিরবই বা কেন, আর বিজেপিই বা আমায় চাইবে কেন? ওদের আমাকে দরকার নেই, আমারও ওদের দরকার নেই।”

একইসঙ্গে অতীতের ক্ষোভও উগরে দিয়েছেন তিনি। বাবুলের দাবি, ২০১৪ সালে যখন বাংলায় বিজেপির সংগঠন প্রায় ছিল না, তখন তিনিই একমাত্র আসন জিতেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁকে নির্মম ভাবে বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হতে হয়েছে। সেই সময় তাঁর মা কোভিডে মারা যান, পরিবারও কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর কথায়, যাঁদের বিরুদ্ধে তিনি একসময় লড়াই করেছিলেন, পরবর্তীতে তাঁদেরই দলে নেওয়া হয়। পাশাপাশি নিজের সততার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আমি কখনও চুরি করিনি। আসানসোলের মানুষ জানেন, আমি কত কাজ করেছি।”গত কয়েক দিন ধরে বহু মানুষ তাঁকে বিজেপিতে ফিরে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন বাবুল। তবে তাঁর স্পষ্ট জবাব, “পারব না। আমাকে ব্যবহার করে ফেলে দেওয়ার অনুমতি আমি কাউকে দিইনি।”

রাজনীতি থেকে ধীরে ধীরে নিজেকে সরিয়ে আবার গানের জগতে ফিরতে চান বলেও জানিয়েছেন তিনি।তাই এবারের নির্বাচনে লড়ারও ইচ্ছা ছিল না তাঁর।তবে শুধুই রাজনৈতিক জবাব নয়, পোস্টে আবেগের সুরও শোনা গিয়েছে বাবুলের কথায়। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিজেপির হয়ে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। তাই শুধুমাত্র রাজনৈতিক মতপার্থক্যের জন্য ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অপমান যেন না করা হয়, সেই আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। বাবুলের কথায়, “রাজনীতি ও ধর্মের ঊর্ধ্বেও জীবন আছে।”

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *