‘আমি ইস্তফা দেব না’, মুক্ত পাখি হয়ে বললেন মমতা! ‘মুখ্যমন্ত্রী’ পদত্যাগ না করলে কী হতে পারে!

0



ম্যাজিক ফিগার ক্রশ করে ২০৭ আসন বিজেপির। সেখানে তৃণমূলের দখলে ৮০। ফলে, নিয়মমাফিক ‘মুখ্যমন্ত্রী’র পদ ছাড়তে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর সেখানেই ‘জেদ’ ধরেছেন তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার কালীঘাটের বাসভবন থেকে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা তো হারিনি, রাজভবনে যাব না, আমি ইস্তফা দেব না’। এরপরই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক ও জল্পনা।
বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের পর সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রথমবার  মুখ খুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায়।কালীঘাটের বাসভবনের তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, ডেরেক ও ব্রায়েন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়। সোমবারই তৃণমূলের ভরাডুবি দেখে অনেকেই আশা করেছিলেন, রাজ্যপালের কাছে গিয়ে হয়তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। কিন্তু সে গুড়ে বালি। উল্টে মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করে বিস্ফোরক মন্তব্যই করলেন। তিনি বলেন, ‘একশো আসন জোর করে লুঠ করা হয়েছে। এসআইআর করে ভোটারদের নাম কাটা হয়েছে। এরকম কোনও ভোটে দেখিনি। আমি ভোটে হারিনি। কেন পদত্যাগ করব? আমরা হারিনি, তাই রাজভবন কেন যাব?’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘সব পরিকল্পনা করে করা হয়েছে। ভোটের আগে বহু আধিকারিকদের বদল করা হয়েছে। ভোটের দিন দুয়েক আগেই আমাদের একাধিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ইন্ডিয়া জোটকে আরও শক্তিশালী করাই হবে একমাত্র লক্ষ্য। এখন আমি মুক্ত পাখি। মানুষের সেবায় কাজ করব। রাস্তায় ছিলাম। রাস্তায় থাকব।’
বিদায়ী সরকারের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে ৭ মে। সেই প্রেক্ষিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি পদত্যাগ না করেন, তাহলে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে?
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় কোনও জটিলতা তৈরি হওয়ার কথা নয়। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে না গেলেও বা পদত্যাগে অনীহা দেখালেও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতায় বড় কোনও পরিবর্তন ঘটবে না। কারণ, বিধানসভার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সেই সরকার কার্যত অস্তিত্ব হারায় এবং জনাদেশও আর বলবৎ থাকে না। সংবিধান অনুযায়ী এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপালের হাতে ক্ষমতা থাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার। অর্থাৎ, সরকার নিজে থেকে সরে না দাঁড়ালেও রাজ্যপাল চাইলে সেই সরকারকে অপসারণ করতে পারেন। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই নতুন ফলাফল ঘোষণা করেছে, যা কার্যকর থাকবেই, যতক্ষণ না আদালত অন্য কোনও নির্দেশ দিচ্ছে। আইনজীবীদের একাংশের ব্যাখ্যা, নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার অধিকার অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু আদালতের স্থগিতাদেশ না থাকলে সেই ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রক্রিয়া এগোবে। সারকথা, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করুন বা না-ই করুন, নতুন বিধানসভা গঠন এবং নতুন সরকারের শপথগ্রহণে কোনও বাধা তৈরি হবে না। রাজ্যপাল সংবিধান অনুযায়ী নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়োগ করতে পারেন। ৭ মে বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন অধ্যায় শুরু হওয়াই শুধু সময়ের অপেক্ষা।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *