প্রয়াত মুকুল রায়, যুব কংগ্রেস থেকে  রাজ্য রাজনীতির চাণক্য নীরবেই চিরঘুমের দেশে

0

চিরবিদায় মুকুল রায়। সক্রিয় রাজনীতি থেকে ক্রমে দূরে সরে গিয়েছিলেন, তবু ছিলেন। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তিনি প্রাক্তন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী। তিনি রাজ্যসভার সাংসদ এবং বিধায়ক মুকুল রায়। তাঁকে বাংলার রাজনীতিতে চাণক্য বলেই পরিচিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। নিউরোলজিক্যাল সমস্যা, ডিমেনশিয়া এবং বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতা।  রবিবার গভীর রাতে কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।


ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মুকুল রায়। কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ছাত্র আন্দোলন থেকে যুব কংগ্রেসে যোগ দেন। এরপর জাতীয় কংগ্রেসে যোগ। ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করলে, মুকুল রায় তাঁর অন্যতম প্রধান সহযোদ্ধা হিসেবে নতুন দলে যোগ দেন। রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে উঠে আসেন তিনি। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন তিনি। ২০০৬ সালে তিনি প্রথমবার রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০১২ সালে দ্বিতীয়বার। ২০০৯ সালে ইউপিএ-২ সরকারে নৌপরিবহন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন, এর পর ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেল মন্ত্রক থেকে পদত্যাগ করলে রেল মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হন মুকুল। ২০১২তে তৎকালীন রেলমন্ত্রী দিনেশ ত্রিবেদী পদত্যাগ করার পর ভারতের পূর্ণ রেলমন্ত্রী হন।  রাজনীতিতে রঙ পরিবর্তন করতেও দেখা যায় তৃণমূলের চাণক্যকে। ২০১৭ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টি-তে যোগ দেন। বিজেপির প্রার্থী হিসেবে নদিয়ার কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন।


২০২১ সালে তিনি আবার তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসেন। কিন্তু ততদিনে হারাতে বসেছেন কর্মক্ষম।
২০২১ সালে স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হয়। ঘরবন্দিই জীবন কাটাতে শুরু করেন। ২০২৬ এ ঝরে পড়ল মুকুল।


সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন প্রায় বছর দু’য়েক। শেষের দিকে চলে গিয়েছিলেন কোমায়। হাসপাতালেই গভীর রাতে ম্যাসিভ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় তাঁর। চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয় তারপর। আর ফেরানো যায়নি বঙ্গ রাজনীতির এই বর্ষীয়ান নেতাকে। অবসান ঘটল এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *