‘ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত কিছু মানুষ দলের উন্নতি চায় না’ ব্রুজোর মন্তব্যে ইস্টবেঙ্গলে বিতর্ক
কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে বিতর্কের কেন্দ্রে ইস্টবেঙ্গল। প্রাক-ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে বিস্ফোরক মন্তব্য করে ক্লাবের অন্দরে অন্তর্ঘাতের ইঙ্গিত দিলেন লাল-হলুদের প্রধান কোচ অস্কার ব্রুজো। তাঁর সরাসরি দাবি, ক্লাবের সঙ্গেই যুক্ত কিছু মানুষ দলের উন্নতি চান না এবং পরিস্থিতি খারাপ হলেই অস্থিরতা ছড়ানোর চেষ্টা করেন। সমর্থকদের মনোভাব নিয়ে করা এক প্রশ্নের উত্তরে ব্রুজো বলেন, ‘সমর্থকেরা আমাদের হতাশ করেননি। এই সপ্তাহে অনেক ফ্যান গ্রুপের সঙ্গে দেখা করেছি। কিন্তু ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত কিছু মানুষ আছেন, যারা দলের অগ্রগতি দেখতে চান না। পরিস্থিতি খারাপ হলেই তারা সামনে আসে এবং নিজেদের চেহারা দেখায়।’
কোচের এই মন্তব্য ঘিরে ময়দানে জল্পনা শুরু হয়েছে। তিনি ঠিক কাদের উদ্দেশে এমন কথা বলেছেন, তা স্পষ্ট করেননি। তবে ব্রুজো স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে তিনি ক্লাবকে বিভক্ত হতে দেবেন না। তাঁর মতে, অতীতের নানা সমস্যাই দীর্ঘদিন ইস্টবেঙ্গলের অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, কিন্তু সেগুলি কাটিয়ে উঠতেই এখন দল এগোতে চাইছে।
কোচের বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ক্লাব কর্তা দেবব্রত সরকার। তিনি বলেন, ‘কোচ পেশাদার। আজ আছেন, কাল নাও থাকতে পারেন। তাঁর কথাকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না। যদি অভিযোগ থাকে, বোর্ড মিটিংয়ে নাম করে বলুন। কোম্পানি দল গঠনে অর্থ দিয়েছে, কোচ নিজের মতো দলও গড়েছেন। তাই এখন দলের পারফরম্যান্সেই ফোকাস করা উচিত।’ পাশাপাশি তিনি জানান, ‘সমর্থকরাই ক্লাবের সম্পদ এবং তাঁদের আঘাত করা উচিত নয়’।
এবারের আইএসএলে শুরুটা ভালো করলেও শেষ দু’ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট নষ্ট করেছে ইস্টবেঙ্গল। তবু চার ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে এখনও লড়াইয়ে রয়েছে লাল-হলুদ। শনিবার যুবভারতীতে কেরালা ব্লাস্টার্সকে হারিয়ে জয়ের ছন্দে ফেরাই এখন ব্রুজোর দলের প্রধান লক্ষ্য। চোট সমস্যা নিয়েও কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে শিবিরে। আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার কেভিন সিবিলে আন্তর্জাতিক বিরতির পর ফিরতে পারেন বলে জানিয়েছেন কোচ। অন্যদিকে অধিনায়ক সাউল ক্রেসপো পুরো ম্যাচ না খেললেও কিছু সময় মাঠে থাকতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সবমিলিয়ে মাঠের লড়াইয়ের আগে ইস্টবেঙ্গল শিবিরে এখন উত্তাপ তুঙ্গে। অন্তর্দ্বন্দ্বের জল্পনা, চোট সমস্যা— সবকিছু পাশ কাটিয়ে কেরালার বিরুদ্ধে জয়ই এখন লাল-হলুদের কাছে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। এই ম্যাচে জয় পেলে চলতি আইএসএলে দলের লক্ষ্যপূরণের পথে তা গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
