‘এবার হাতে পায়ে ধরলে বিজেপি হয়ে যাবেন’! কবীর সুমনকে খোঁচা তসলিমার
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদল হতেই সুর বদলে গেল যেন কবীর সুমনের!দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় জয় পেয়েছে বিজেপি। আর সেই ফল ঘোষণার পর থেকেই একাংশ শিল্পী-বুদ্ধিজীবীর অবস্থান বদল নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সেই বিতর্কের কেন্দ্রে এখন কবীর সুমন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সুমন দাবি করেন, ‘আমি কখনও তৃণমূলের সদস্য ছিলাম না, তৃণমূলপন্থীও নই।’ তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসতেই তীব্র কটাক্ষ করেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। অতীতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘তিনিই তো বলেছিলেন, আজ থেকে ৩০০ বছর পর মমতার নামে পুজো হবে, মন্দিরও হবে। শুধু তা-ই নয়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে গান বেঁধেছিলেন। ২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর কাজের প্রশংসাতেও গান লিখেছিলেন।’
তসলিমা আরও বলেন, ‘মমতার নামে মন্দির হবে-এই ঘোষণা তিনি মাথায় সাদা গোল টুপি পরে করেছিলেন। ওই টুপি পরার জন্য কে তাঁর হাতে-পায়ে ধরেছিল?’ এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। তাঁর কথায়, সুমন শুধু গানই লেখেননি, ‘মমতা’ নামে একটি নিজস্ব রাগ সৃষ্টি করে তাতে খেয়ালও গেয়েছিলেন, এমনকি ‘মমতার জন্য’ নামে বিশেষ গানও বেঁধেছিলেন। ‘তাহলে এখন তিনি যদি দাবি করেন তৃণমূলপন্থী ছিলেন না, তার ব্যাখ্যা কী?’—প্রশ্ন তোলেন লেখিকা। কটাক্ষের সুর আরও চড়িয়ে তসলিমা বলেন, ‘মজার তো! হাতে-পায়ে ধরলেই কাজ হয়ে যায়! কেউ যদি বলে, আপনি তো কমিউনিস্ট ছিলেন—হাতে-পায়ে ধরেছিল বলে তৃণমূল হলেন, এবার হাতে-পায়ে ধরলে বিজেপিও হয়ে যাবেন, তাই না? তখন সেই গোল টুপিটার কী হবে?’
উল্লেখ্য, গত দেড় দশক ধরে কবীর সুমনকে তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই দেখা গিয়েছে। এমনকি চলতি বছরের মার্চ মাসেও ধর্মতলার মঞ্চে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে বক্তব্য রাখতে দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে সুমন বলেন, ‘আমি তৃণমূলের সদস্য নই। আমায় মমতা প্রায় হাতেপায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন। তার আগে আমি কোনও দলের সদস্যও ছিলাম না।’ পাশাপাশি তিনি স্বীকার করেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব ক্ষেত্রে সফল হননি। চাকরি-সংক্রান্ত সমস্যা ও দুর্নীতির অভিযোগে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও মত তাঁর। সুমনের দাবি, সেই অসন্তোষই ভোটে প্রভাব ফেলেছে।
